ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের একটি সিটি স্ক্যান মেশিন প্রায় এক মাস ধরে বিকল হয়ে পড়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা। একই সঙ্গে এমআরআই ও এক্স-রে বিভাগের ফিল্ম সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, ভিড় এবং বিশৃঙ্খলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের শুরুতে চালু হওয়া সিটি স্ক্যান মেশিনটির ওয়ারেন্টি ছিল সাত বছর। প্রতিদিন এই মেশিনের মাধ্যমে ৬০ থেকে ৭০ জন রোগীর সিটি স্ক্যান করা হতো। কিন্তু প্রায় এক মাস আগে হঠাৎ মেশিনটি বিকল হয়ে যায়। এরপর থেকে জরুরি রোগীদেরও সিটি স্ক্যানের জন্য বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।
শুধু সিটি স্ক্যান মেশিনই নয়, হাসপাতালের চারটি এক্স-রে মেশিনের মধ্যে একটি দীর্ঘদিন ধরে অচল রয়েছে। এছাড়া দুটি এমআরআই মেশিনের মধ্যে একটি সচল থাকলেও অপরটির কার্যক্ষমতার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। এর ফলে সীমিত সক্ষমতা নিয়ে চলছে হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগ।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা জানান, প্রায় এক মাস ধরে এক্স-রে ও এমআরআই করাতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ফিল্মের সংকটের কারণে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে বিলম্ব হচ্ছে। অনেক সময় লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে রোগীর স্বজনদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফিল্ম সংকট এবং যন্ত্রপাতির অচলাবস্থা মিলিয়ে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ ডায়াগনস্টিক সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়ও।
এক হাজার শয্যার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার প্রায় চার গুণ রোগী ভর্তি থাকে। ময়মনসিংহ ছাড়াও শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জসহ আশপাশের জেলার অসংখ্য রোগীর চিকিৎসার প্রধান ভরসা এই হাসপাতাল। তাই দ্রুত বিকল যন্ত্রপাতি মেরামত এবং ফিল্ম সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন রোগী, স্বজন ও স্থানীয় সচেতন মহল।
হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ বদরুল আহসান বলেন, সিটি স্ক্যান মেশিন বিকল হওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে একটি নতুন এমআরআই মেশিন হাসপাতালে আসার কথা রয়েছে।
হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ স্টোর অফিসার ঝন্টু সরকার জানান, সিটি স্ক্যান মেশিনটি মেরামতের জন্য জাতীয় ইলেকট্রোমেডিকেল সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কাজ শুরু করেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।



