ঢাকাTuesday , 21 July 2020
  1. Correspondent
  2. English News
  3. আজকের ময়মনসিংহ
  4. আদালত
  5. আন্তর্জাতিক সংবাদ
  6. ইসলাম ও জীবন
  7. এক্সক্লুসিভ ময়মনসিংহ
  8. করোনা আপডেট
  9. করোনায় সহযোগীতা
  10. খেলার সংবাদ
  11. চাকুরী
  12. ছবি গ্যালারী
  13. জাতীয় অহংকার
  14. জাতীয় নির্বাচন ২০১৮
  15. জাতীয় সংবাদ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঢাকায় উপনির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি

Link Copied!

ঢাকায় শূন্য হওয়া দু’টি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি। আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা না হলেও দলের নীতিনির্ধারকদের সাথে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে। যদিও দলটি করোনা মহামারীর মধ্যে অনুষ্ঠিত যশোর-৬ ও বগুড়া-১ উপনির্বাচনে অংশ নেয়নি।

ঢাকায় নির্বাচনে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে দলটির মত, যখন ঢাকা-৫ ও ঢাকা-১৮ আসনে উপনির্বাচন হবে, তখন করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে পারে। এ দিকে দল নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে রয়েছে, এমন সিগন্যাল পেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীরাও নড়েচড়ে বসেছেন। ডিজিটাল মাধ্যম কিংবা নিজ বাসায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ বাড়ানোর কাজ শুরু করেছেন তারা।

বিএনপি নেতারা বলছেন, ঢাকার উত্তর-দক্ষিণ প্রবেশমুখের এই দু’টি আসন রাজনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু রাজধানীতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগকে এই দু’টি আসন ছেড়ে দেয়া ঠিক হবে না। করোনাকালে স্থবির হয়ে যাওয়া সাংগঠনিক কার্যক্রম কিছুটা হলেও এই নির্বাচনে অংশ নেয়ার মধ্য দিয়ে গতি লাভ করতে পারে। তা ছাড়া ঢাকা-৫ ও ঢাকা-১৮ আসন শূন্য হয়েছে অল্প কিছু দিন আগে। তাই দ্রুতই এই আসনগুলোতে নির্বাচন করতেই হবে নির্বাচন কমিশনের এমন সাংবিধানিক কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধরে নেয়া যেতে পারে আগামী ২ মাস পরে এই আসনগুলোর নির্বাচন হবে। তত দিনে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। ফলে নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো সমস্যা থাকবে না।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রসঙ্গে বলেন, দলের স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে আলোচনা করে ঢাকার উপনির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। দলের সিনিয়র এক নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশন মহামারীর মধ্যেই যশোর আর বগুড়ার উপনির্বাচন সম্পন্ন করেছে। নির্বাচন মানে উৎসব, নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ; কিন্তু ওই নির্বাচনে এসব কিছুই ছিল না। একতরফা একটি নির্বাচন হয়েছে। বিএনপি এই মহামারীতে নেতাকর্মীদের বিপদের মধ্যে ফেলে দিতে চায়নি বলেই নির্বাচন পেছানোর পক্ষে ছিল।

গত ৬ মে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা আর ১০ জুলাই ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য সাহারা খাতুন মারা যান। তাদের মৃত্যুতে এই দু’টি আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন মহানগর বিএনপির নেতা নবী উল্লাহ নবী। উপনির্বাচনে নবী উল্লাহ নবী যেমন নির্বাচন করতে চান, তেমনি দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন আরো কয়েকজন।

আসন্ন এই নির্বাচনে অংশ নিতে চান মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ। ঢাকা-৫ আসনের সাবেক এমপিও ছিলেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিগত সংসদ নির্বাচনের দিন পুরো জাতি দেখেছে, কারচুপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা আমাকে ও আমার ছেলে তানভীর আহমেদ রবিনকে গুরুতর আহত করার পরেও জ্ঞান থাকা পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লড়াই করেছি। ঢাকা-৫ আসনের সাবেক সফল এমপি হিসেবে স্থানীয় নেতাকর্মী, সমর্থক, গণ্যমান্য বাক্তিরা আসন্ন উপনির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য আমাকে চাপ দিচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে দলের হাইকমান্ড যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে আমি নির্বাচন করতে প্রস্তুত।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশারও ঢাকা-৫ আসনে নির্বাচনে অংশ নিতে চান।
একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ থেকে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল জেএসডির নেতা শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন। কিন্তু উপনির্বাচনে তার অংশ নেয়ার তেমন আগ্রহ নেই বলে জানা গেছে।

এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন চান ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন আহমেদ, ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা মো: বাহাউদ্দিন সাদী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

কফিল উদ্দিন আহমেদ বলেন, উত্তরায় আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা। ৩২ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত আছি। শতাধিক মামলার আসামি হয়েছি। দলের জন্য আগামী দিনেও সমানভাবে কাজ করে যেতে চাই। ঢাকা-১৮ আসনে দল আমাকে মনোনয়ন দিলে এবং নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিজয় উপহার দিতে আমি সক্ষম হবো। নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছেন বলে জানান কফিল উদ্দিন।

সম্ভাব্য আরেক প্রার্থী বাহাউদ্দিন সাদী নির্বাচনে অংশ নেয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়ে বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই সঙ্কটকালীন মুহূর্তে নির্বাচনে যাওয়ার থেকেও জনগণের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। আমরা সেই সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান রেখে আপাতত প্রচার বন্ধ রেখেছি। তবে যেকোনো সময় পূর্ণ শক্তিতে প্রচার-প্রচারণা চালানোর মতো সাধ এবং সামর্থ্য দুটোই আল্লাহর রহমতে আমার রয়েছে। যুবদল নেতা এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনও ঢাকা-১৮ উপনির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

এই নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত নিউজগুলো বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও ব্যবহার করা বেআইনি।