তেল গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, গুম আর খুনের ঘটনায় পুলিশ, র্যাব যদি অভিযোগ গ্রহণ না করেন তাহলে বুঝতে হবে তারাই এর সাথে জড়িত। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশের গুম আর খুনের সাথে রাষ্ট্রীয় বাহিনী সরাসরি জড়িত। অথচ সরকার এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করছে। এই সরকার মিথ্যার উপর ভর করে চলছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি আয়োজিত গুম ও গণতন্ত্রের অব্যাহত সংকট শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক, ব্যারিষ্টার সারা হোসেন, অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদ প্রমূখ। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন এলাকার গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নিয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।
আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকারের প্রধান থেকে শুরু করে উচ্চ পদের প্রত্যেকেই গুম খুন নিয়ে অব্যাহতভাবে মিথ্যাচার করছে। গুম পরিবারের অনেক সদস্য অভিযোগ করেছেন, র্যাবের পোশাক পড়েই তুলে নিয়ে পরে গুম করা হচ্ছে । এর জবাবে যদিও র্যাব বলছে, কালো পোশাক নাকি গুলিস্তানেও পাওয়া যায়। তাহলে প্রশ্ন হলো, এই কালো পোশাকের বিক্রেতাকে র্যাব ধরছে না কেন?
তিনি আরো বলেন, জনগনের করের টাকা নিয়ে সেই জনগনের সাথেই হাসিঠাট্টা করছে প্রশাসনের লোকজন। গুম হওয়া সদস্যের পরিবারের লোকজন যদি থানায় গিয়ে জিডি বা মামলা করতে চান, কিংবা র্যাবের খাতায় অভিযোগ দিতে চান আর সেখানে র্যাব বা পুলিশ যদি অভিযোগ না দিয়ে উল্টো হয়রানি করেন তাহলে বুঝতে হবে এসবের সাথে তারাই জড়িত।
আনু মুহাম্মদ বলেন, দিন বদলের শ্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল। জনগণের মনে এখন প্রশ্ন এটাই কি আওয়ামী লীগের দিন বদল ? পুলিশ র্যাব এখন সারা দেশে আটক বাণিজ্য শুরু করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। ১৯৭৩/৭৪ সালেও একটি শ্লোগান ছিল স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই। এখন সেই স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টিও পাচ্ছে না জনগন। তিনি সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, উন্নয়নের মানে কি প্রতিদিন একজন গুম করা ? উন্নয়নের মানে কি সকালে দুপুরে দুর্ঘটনায় মৃত্যু খবর পাওয়া ? উন্নয়নের মানে কি পাহাড়ে আর সমতলে অস্তিরতা তৈরি করা ?
দেশের নির্বাচনও এখন গুমের মধ্যে পড়ে গেছে এমন মন্তব্য করে আনু মুহাম্মদ বলেন, গুম খুনের বিরুদ্ধে আমরা সর্বদা সোচ্চার ভূমিকা রাখবো। কষ্ট হলেও গুম হওয়া পরিবারের ডাকে সাড়া দেব। আরো বেশি মানুষকে গুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার করতে ভূমিকা রাখতে কাজ করবো।



