ঢাকাMonday , 15 March 2021
  1. Correspondent
  2. English News
  3. আজকের ময়মনসিংহ
  4. আদালত
  5. আন্তর্জাতিক সংবাদ
  6. ইসলাম ও জীবন
  7. এক্সক্লুসিভ ময়মনসিংহ
  8. করোনা আপডেট
  9. করোনায় সহযোগীতা
  10. খেলার সংবাদ
  11. চাকুরী
  12. ছবি গ্যালারী
  13. জাতীয় অহংকার
  14. জাতীয় নির্বাচন ২০১৮
  15. জাতীয় সংবাদ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৮ বছরে লক্ষীপুরে ১২৪০ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার

Link Copied!

নির্যাতনলক্ষীপুরে গত ৮ বছরে মোট ১২৪০ নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে নির্যাতিত নারীর সংখ্যা ১১০৪ জন ও নির্যাতিত শিশুর সংখ্যা ১৩২ জন। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রামের আওতায় ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেল (ওসিসি) লক্ষীপুর শাখা তথ্য মতো এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৮৪৬ নারী ও ৯০ জন শিশু।

এ ছাড়া মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ২৬০ জন নারী ও ৩৪ জন শিশু। যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ২ জন নারী ও ৪ জন শিশু।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশব্যাপী নির্যাতিত নারী ও শিশুকে সহায়তার জন্য মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রামের আওতাধীন দেশের প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতাল ও ২০ টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওয়ান- স্টপ ক্রাইসিস সেল(ওসিসি) কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নির্যাতিত নারী ও শিশুকে সরকারি ও বেসরকারি সুযোগ সুবিধার অন্তর্ভূক্ত করে। লক্ষীপুর সদর হাসপাতালে বিগত ২০১৩ সাল থেকে ওসিসি তাদের কার্যক্রম শুরু করে।

লক্ষীপুর সদর হাসপাতালে অবস্থিত ওয়ান- স্টপ ক্রাইসিস সেল (ওসিসি) হাসপাতালে আগত নির্যাতিত নারী ও শিশুকে বিভিন্ন মাধ্যমে নানামুখী সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
অসহায় নারীদের অভিভাবকের মত আইন সহায়তা, পুলিশ সহায়তা, চিকিৎসার পরামর্শ, সামাজিক মীমাংসা, মনোকাউন্সিলিং ও জীবন নির্বাহ প্রশিক্ষণ সুযোগ করে দিচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে কাজ করছে তারা।

বিগত ২০১৩ থেকে ২০২০ পর্যন্ত লক্ষীপুরে ৬৪৮ জন কাউন্সিলিং প্রদান করা হয়। সামাজিক মিমাংসার মাধ্যমে ১৮৩ টি বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়। ১৯৪ জন বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়।

১৫৪ জন পুলিশ সহায়তা প্রদান করা হয়। ৫৬ জন নারীকে স্বাস্থ্য বিষয়ক সহায়তা প্রদান করা হয়। ৪ জন নারীকে প্রশিক্ষণ সহায়তা প্রদান করা হয় (ওসিসি) লক্ষীপুর শাখা থেকে।

এ ব্যাপারে লক্ষীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ এলাকার নির্যাতিত এক নারী বলেন, আমার স্বামী রাত ১২ টায় আমার ভাইদের থেকে নগদ টাকা আনার জন্য আমাকে চাপ দেয় টাকা এনে দিতে না পারায় আমাকে বেদম প্রহার করে বাসা থেকে বের করে।

রাত্রিবেলা কই যাবো , এটা ভেবে আমার ভাইকে মোবাইল করি। তিনি এসে আমাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

হাসপাতালে ভর্তি হলে সকাল বেলায় ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেল ( ওসিসি) নজরে পড়ে। ওসিসির অফিসার আমাকে সাহস যোগান, স্বামীকে খবর দিয়ে অফিসে আনেন।
স্বামীকে ডেকে আনেন স্বামী তার অপরাধ শিকার করেন। তার ভুলের জন্য আমার কাছে ক্ষমা চায়, কখনও যৌতুকের টাকা চাহিবে না বলে অঙ্গীকার করে ।

চর রমনী মোহন ইউনিয়নের মজু চৌধুরী হাট এলাকার একজন নারী বলেন, আমার স্বামী মাছ ধরার জন্য সারা বছর নদীতে থাকে। প্রতিবেশি কয়েকজন আমার মেয়েকে প্রায় বিরক্ত করে, কুপ্রস্তাব দেয় এবং বিভিন্ন নম্বর থেকে মোবাইলে বিরক্ত করে। এরা আমার মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ওদের হাত থেকে আমার মেয়ে ধস্তাধস্তি করে ছুটতে গিয়ে আহত হলে সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়।

তখন ওয়ান- স্টপ ক্রাইসিস সেল ( ওসিসি) নজরে পড়লে তারা আমাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে পুলিশ সহায়তার জন্য জন্য সদর থানায় প্রেরণ করে। একই সাথে আইনি সহায়তার জন্য জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে মামলা হলে একজন আসামী গ্রেপ্তার হয়। আসামী পক্ষ থেকে প্রায় আমাদের হুমকি দিত কিন্তু ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেল (ওসিসি) আমাদের সাহস যোগাত।

মামলার তারিখে হাজিরা থাকলে মোবাইল করে স্মরণ করিয়ে দিত। ওসিসির আমাদের মত অজ্ঞ নারীদের সহযোগিতা করায় সব সময়ে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
দত্তপাড়া ইউনিয়নের মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সদর হাসপাতালে ওয়ান – স্টপ ক্রাইসিস সেল ( ওসিসি) সেবা ও সহযোগিতা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমার এলাকায় নারী ও শিশু নির্যাতন সম্পর্কিত কোন ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগীকে সদর হাসপাতাল ওয়ান- স্টপ ক্রাইসিস সেল(ওসিসি)তে পাঠাই। তারা ভিকটিমকে বিভিন্নমুখী সহযোগিতা করে।

১৯ নং তেয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের আক্তার হোসেন বোরহান চৌধুরি বলেন, এলাকার অনেক নির্যাতিত নারীকে ওয়ান- স্টপ ক্রাইসিস সেল ( ওসিসি) সেবা দিয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত অফিস করা দরকার। তা হলে গ্রামের মানুষ গুলো তার সুফল পাবে এবং সরকারের উদ্দেশ্য পুরোপুলি সফল হবে।

জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুলতানা জোবেদা খানম বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমাদের ওয়ান- স্টপ ক্রাইসিস সেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: আনোয়ার হোসেন বলেন, রোগীদের আরোও অধিক সেবা দেওয়ার জন্য আমাদের হাসপাতালে অবস্থিত ওয়ান- স্টপ ক্রাইসিস সেল (ওসিসি) তে প্রেরণ করি। তারা আন্তরিকতা দিয়ে মানুষ কে সেবা দিয়ে যাচ্ছে তবে আরও লোকবল প্রয়োজন তা হলে কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

লক্ষীপুর সদর হাসপাতালে অবস্থিত ওয়ান- স্টপ ক্রাইসিস সেল (ওসিসি) প্রোগ্রাম অফিসার মো: খালেদ মাহমুদ বলেন, শারীরীক, মানসিক ও যৌন নির্যাতিত নারীদের জন্য (ওসিসি) মাধ্যমে আইন, পুলিশ, চিকিৎসা সহায়তা, সামাজিক মীমাংসা, জীবন নির্বাহ প্রশিক্ষন এবং কাউন্সিলিং সেবা দেওয়া হয়।
নির্যাতিত নারীদের সেবায় ওসিসি) সবসময়ে পাশে দাঁড়াবে, নারীদের আর নীরবে কাঁদতে হবে না। নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে, দেশ এগিয়ে যাবে।

এই নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত নিউজগুলো বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও ব্যবহার করা বেআইনি।
taraftarium24selcuksportsjustin tvcanlı maç izletaraftarium24 güncel adrestaraftarium24