রেড জোন থেকে লকডাউন প্রত্যাহারে হাইকোর্টে রিট

সরকারঘোষিত রেড জোনে লকডাউন প্রত্যাহার ও দেশব্যাপী স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালুর নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুরুল করিম রিট আবেদনটি দায়ের করেন।

সোমবার (২৯ জুন) রিটকারীর আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আইনজীবী বলেন, ‘সরকার সম্প্রতি করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দেশের বিভিন্ন এলাকাকে রেড জোন হিসাবে চিহ্নিত করে সেখানে ঢালাওভাবে লকডাউন জারি করেছে। বাংলাদেশে প্রচলিত ‘সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮’-এর অধীনে কেবলমাত্র সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চলাচল, বসতবাড়ি কিংবা ব্যবহৃত দ্রব্যাদিতে সরকার নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে। অসুস্থ মানুষদের কারণে পুরো এলাকা কিংবা শহর লকডাউন করার কোনো আইনগত এখতিয়ার সরকারের নেই।’

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, লকডাউন করোনার মৃত্যুহার থামাতে পারে— এমন ধারণার কোনো প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কারণ সারা বিশ্বে যেসব দেশে করোনায় সবচেয়ে বেশি হারে মৃত্যু হয়েছে (মিলিয়ন জনসংখ্যায় মৃত্যুহার হিসাবে), তার প্রথম ১০টিতেই লকডাউন হয়েছিল। অপরদিকে লকডাউন না হয়েও সুইডেন মৃত্যুহারের দিক থেকে ১১তম অবস্থানে আছে। আবার অনেক দেশে লকডাউন তুলে নেওয়ার পর আক্রান্তের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। এ ব্যাপারে গত ২২ মে ব্রিটিশ দৈনিক ‘দি সান’ পত্রিকায় বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

আইনজীবী বলেন, ‘হার্ড ইমিউনিটি হলো এই ধরনের ভাইরাস থেকে রক্ষার একমাত্র বিজ্ঞানসম্মত উপায়। দেশে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করতে হলে সুস্থ-সবল নাগরিকদের চলাচলের ওপর বেআইনিভাবে আরোপ করা সব বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করতে হবে। তাই ‘সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮’ অনুসরণে কেবলমাত্র অসুস্থ ও দুর্বল লোকদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিয়ে বাকি নাগরিকদের ওপর থেকে লকডাউনের নামে আরোপ করা যাবতীয় বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের করতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।’

Share this post

scroll to top