উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাত কমে আসায় তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে, কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার নিচে নেমেছে। বসতভিটা থেকে পানি নামায় উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়া বন্যদুর্গত মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে।
নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে চার দিন বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ঢলের পানির চাপ ও বৃষ্টি বন্ধ হওয়ায় এ পয়েন্টে আজ সোমবার (২৯ জুন) বিকাল তিনটা হতে বিপৎসীমার আট সেন্টিমিটার নিচে নেমে আসে। তবে সকাল ছয়টায় বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপরে ও সকাল নয়টায় তিন সেন্টিমিটার ওপরে ও দুপুর ১২ টায় বিপৎসীমার পাঁচ সেন্টিমিটার নিচে নেমে আসে। এখানে বিপদসীমা ৫২.৬০ সেন্টিমিটার। ডালিয়া ব্যারেজের ৪৪ টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
আজ সকাল হতে তিস্তা নদীর পানি কমতে থাকে। এরফলে নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার বন্যা কবলিত মানুষদের বাড়ি হতে পানি নেমে গেছে। যারা বন্যার কারণে উচুস্থানে আশ্রয় নিয়েছিল, তারাও নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। এতে নীলফামারীতে তিস্তা নদীর বন্যা পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নতি হয়েছে।
ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ইউনিয়নের ছাতুনামা ও ভেন্ডাবাড়ি মৌজার যে ৬০০ পরিবার পানিবন্দি ছিল, তাদের বাড়ি হতে পানি নেমে গেছে। তবে ২২টি পরিবারের ঘরবাড়ি তিস্তা নদীতে বিলীন হওয়ার কারণে তারা উচু স্থানে অবস্থান করছে।
টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ময়নুল হক বলেন, বন্যার কারণে ইউনিয়নের পুর্ব খড়িবাড়ি টাপুরচর এলাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে করা দুই হাজার মিটার বালির বাঁধটির ৫০০ মিটার গত বন্যায় বিলীন হয়েছে। এবারের বন্যায় আবারও বাঁধটির ২০০ মিটার নদী গর্ভে বিলীন হলো। এখন দ্রুত আবারও বাঁধটি মেরামত করার উদ্দ্যেগ নিতে হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আজ সোমাবর সকাল হতে তিস্তা নদীর পানি কমে আসা শুরু করে। সকাল ছয়টায় বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে বিকাল তিনটা তা কমে বিপদসীমার আট সেন্টিমিটার নিচে নেমে আসে। তিস্তা ব্যারাজের সব কয়টি (৪৪টি) গেট খুলে রেখে রাখা হয়েছে।