ময়মনসিংহে ইন্জিনিয়ার পেশার আড়ালে ফজলের প্রতারণা ব্যবসা! (অডিওসহ)

মো: আব্দুল কাইয়ুম : মানুষের সাথে প্রতারণা করা যার নেশা ও পেশা। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সময় মানুষকে হুমকি-ধামকি দিয়ে ও নানাভাবে জিম্মি করার মতো ঘটানও ঘটিয়েছে ময়মনসিংহের এক সিভিল ইন্জিনিয়ার। এমনি এক প্রতারকের সন্ধান মিলেছে ময়মনসিংহে। তার নাম আবুল ফজল।

জানাযায়, বিভিন্ন সময় সাধারণ মানুষের সাথে সরলতার সুযোগ নিয়ে বাড়ি প্লান (নকশা) করার নামে প্রথমে টাকা নিয়ে কাজ বুঝিয়ে না দিয়ে উপরন্তু টাকা আত্মসাত করছে। পাওনা কাজ বুঝিয়ে না দেয়ার ফলে কেউ যদি অগ্রীম দেয়া টাকা ফেরত চায় তবে দেয় দিচ্ছি করে একপর্যায়ে টাকা না দেয়ার তালবাহানা শুরু করে। টাকা আদায়ের জন্য তার সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখলে কোন একসময় হুমকিই দিয়ে বসে। ‘পারলে টাকা আদায় কর’ এধরণের কথার চেয়ে আরো নিকৃষ্ট কথা ও গালিগালাজ করে হুমকি দেয়। তিনি নিজেকে ময়মমনসিংহ শহরের স্বনামধন্য একটি প্রপার্টিজ গ্রুপের প্রজেক্ট ইন্জিনিয়ার বলে দাবি করলেও বাস্তবে বর্তমানে তার সাথে ওই গ্রুপের কোন সম্পর্ক নেই। আবুল ফজল বেশ কয়েকবছর আগে ওই গ্রুপের অটোক্যাড সেকশনে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। চাকরি চলাকালিন সময়েই প্রতিষ্ঠানের সরলতার সুযোগ নিয়ে লিমিটেড গ্রুপের সাথে প্রতারণা শুরু করেন এই ফজল। একসময় ওই গ্রুপকে বিভিন্নভাবে জিম্মি করে।

এমন প্রতারকের হাতে যেন সাধারণ মানুষকে আর প্রতারণার শিকার হতে না হয় সেজন্য জনস্বার্থে কথোপকথনের অডিও নিচে দেয়া হলো সেইসাথে নিউজের বাকি অংশ ভিডিও’র নিচে দেখুন

অপরদিকে, সাধারণ মানুষের সাথে বাড়ি প্লান (নকশা) করার কথা বলে অগ্রীম টাকা নিয়ে সঠিকভাবে ও সঠিক সময়ে কাজ বুঝিয়ে না দিয়ে উপরন্তু গ্রাহকের পাওনা টাকা ফেরত দিতে তালবাহানা শুরু করে। ‘কাজ বুঝিয়ে দিচ্ছি, হাসপাতালে আমার রোগী ভর্তি’ এসব অযুহাত দেখিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ ডেলিভারী না দিয়ে বরংচ এক পর্যায়ে গ্রাহককে বিভিন্ন রকম থ্রেড দিয়ে চুপ রাখার চেষ্টা করছে। এমনি এক ঘটনার ভুক্তভোগী ময়মনসিংহ লাইভকে জানান, আমাকে নির্দিষ্ট সময়ে বাড়ি প্লান (নকশা) বুঝিয়ে দেয়ার কথা বলে অগ্রীম টাকা নিয়ে কাজ বুঝিয়ে দেয়নি আবুল ফজল। প্রথমে নিজেকে একজন সৎ ও দ্বীনদার ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে কাজ নেয়। কিন্তু বেশ কয়েকদিন চলে গেলে তার কথায় আর কাজের মিল পাওয়া না গেলে আমি আমার টাকা ফেরত চাই। সে আমার টাকা ফেরত দিবে বলেও নিশ্চিত করে। কিন্তু কয়দিন পর তাকে টাকা চেয়ে ফোন দিলে সে বলে কিসের টাকা পান! কোন টাকা পাস না, তোর বাবার টাকা! পারলে টাকা আদায় কর! এছাড়াও বিভিন্নভাবে গালিগালাজ করে। অথচ তাকে দেখতে একজন আল্লাহ ওয়ালা লোক মনে হয়। এসব প্রতারককে প্রতিহত করা সকলের নৌতিক দায়িত্ব বলেও মনে করেন তিনি। শীঘ্রই তিনি তার কর্মক্ষেত্র থেকে ময়মনসিংহে ফিরেই এই প্রতারকের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে প্রতারণার শিকার হয়েছেন ওই গ্রুপের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, আবুল ফজল তাদের প্রপার্টিজ অফিসে বিভিন্ন সময় প্রতারণা করেছে। সে একসময় প্রপার্টিজকেই জিম্মি করে ফেলে। প্রতারণা ও অনিয়মের কারণে পরে প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেয় কর্তৃপক্ষ।

এব্যাপারে ময়মনসিংহ শহরের একটি আইটি ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, বিগত সময়ে দুরন্ধর আবুল ফজল একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি ভঙ্গ করে প্রতারণা করেছে। সে মূলত ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ার হিসেবে বিভিন্ন কনস্ট্রাকশন কোম্পানীতে সাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতো। কিন্তু শহরের একটি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানীতে কাজ করার সুবাধে অনেকের সাথেই বাড়ি প্লান (নকশা) করার চুক্তি নেয়। এরকম ঘটনা আরো আছে বলেও জানান তিনি।

প্রিয়পাঠক, তার এমন প্রতারণার শিকার হয়েছেন অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী। দ্বিতীয় পর্বের নিউজটি দেখতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন-

ময়মনসিংহে প্রতারক ইঞ্জনিয়ার ফজলের প্রতারণার শিকার সাধারণ শিক্ষার্থীরা (অডিওসহ)

 

প্রিয় পাঠক, আবুল ফজলের বাড়ি প্লানের (নকশা) অনুমোদনের ক্ষমতা না থাকলেও তিনি দেদারছে বিভিন্ন মানুষের সাথে নকশা অনুমোদন দেয়ার চুক্তিও করছেন। অপরদিকে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করতে সে জামায়াতি ইসলামির রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দিলেও অন্তরালে কি করছেন তা নিয়ে জানতে পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।

Share this post

scroll to top