দেশের মধ্যাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি। মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও ঢাকা জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে আরও কয়েকদিন। তবে এখনও ১৩ নদীর ২২টি পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ওপরে অবস্থান করছে। ভারী বৃষ্টির কারণে আরও বেশ কিছু পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠে যাবে। ফলে কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির শঙ্কাও রয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভুইয়া জানান, দেশের ১৩টি নদীর ২২ পয়েন্টের পানি এখন বিপৎসীমার ওপরে অবস্থান করছে। এখনও কিছু এলাকায় পানি বাড়ছে। আমরা আশঙ্কা করছি আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও কিছু পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ওপরে চলে যাবে। এতে দেশের কিছু অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। তবে অনেক পয়েন্টের পানি স্থিতিশীল ও কমার দিকেও আছে। ফলে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও ঢাকা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।
শনিবার বিকালে ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ঘাগট নদীর গাইবান্ধা পয়েন্টে পানি ৭২ সেন্টিমিটার, করতোয়া নদীর চকরহিমপুর পয়েন্টে ১২, ব্রহ্মপুত্র নদীর নুনখাওয়া পয়েন্টে ৫৫, চিলমারী পয়েন্টে ৫০, যমুনা নদীর ফুলছড়ি পয়েন্টে ১০২, বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে ১১১, সারিয়াকান্দি পয়েন্টে ১১৭, কাজীপুর পয়েন্টে ১০৪, সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৯৬, আরিচা পয়েন্ট ৭২, গূড় নদীর সিংড়া পয়েন্টে ৫০, আত্রাই নদীর বাঘাবাড়ী পয়েন্টে ১০০, ধলেশ্বরী নদীর এলাসিন পয়েন্টে পানি ১০৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এখন প্রবাহিত হচ্ছে। কালিগঙ্গা নদীর তারাঘাট পয়েন্টে ২৯, পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে ১০৬, ভাগ্যকুল পয়েন্ট ৫৯ এবং মাওয়া পয়েন্টে ৫৫ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে ২৬, কুশিয়ারা নদীর অমলশীদ পয়েন্টে ৩৪, শেওলা পয়েন্টে ১৩ এবং পুরাতন সুরমা নদীর দিরাই পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাসে বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীগুলোর পানি কমছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। গঙ্গা-পদ্মার উপ ও শাখা নদ-নদীগুলোর পানি স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় এসব নদীর পানি কমতে পারে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মেঘনার উজানের অববাহিকার প্রধান নদীগুলোর পানি কমছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ জামালপুর পয়েন্টের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
এদিকে জেলাগুলোর মধ্যে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নাটোর ও মানিকগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। অন্যদিকে মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও ঢাকা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল অবস্থায় থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়, ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।
আজ দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ১২১ মিলিমিটার। এছাড়া ঢাকা বিভাগে ১১, ময়মনসিংহে ৩, সিলেটে ২০, রাজশাহীতে ৩, খুলনার চুয়াডাঙ্গায় ৮ এবং বরিশালের ভোলায় ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।