‘তথ‌্য-উপাত্তে প্রমাণ পেলে ময়ূর-২ এর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা’

মর্নিং বার্ড লঞ্চডুবিতে ৩৪ জন মারা যাওয়ার বিষয়টি হত্যাকাণ্ড হিসাবে প্রমাণিত হলে অবহেলাজনিত মামলাটি হত্যা মামলা (ফৌজদারি কার্যবিধির ৩০২ ধারা) হিসাবে বিবেচিত হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) সচিবালয়ে নৌমন্ত্রণালয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

লঞ্চডুবির ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ময়ূর-২ এর কারণে বুড়িগঙ্গায় মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়। তদন্তের স্বার্থে দুর্ঘটনার কারণসহ বিভিন্ন বিষয় এখন জানানো যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত কমিটি ফিটনেসবিহীন লঞ্চ বন্ধসহ নৌদুর্ঘটনা এড়াতে ২০ দফা সুপারিশ করেছে। এগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

কমিটির করা সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, কেরানীগঞ্জের চর কালীগঞ্জ ও চর মীরেরবাগ এলাকা থেকে ডকইয়ার্ড স্থানান্তর, লঞ্চ অলস বসে থাকার ঘাট অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া, ঢাকা নদীবন্দরে ট্রাফিক ইন্সপেক্টরের সংখ্যা বাড়ানো, সদরঘাট টার্মিনালের আশপাশে খেয়াঘাট না রাখা, নৌ আইনে শাস্তির মেয়াদ ও জরিমানার পরিমাণ যুগোপযোগী করে আইন সংশোধন করা।

পন্টুন ছাড়া নৌযান নোঙর করা যাবে না, পর্যায়ক্রমে সেখান থেকে কেরানীগঞ্জের শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ড উঠিয়ে দিতে হবে, নৌযান ঘাট ছাড়ার আগে ভয়েজ ডিক্লেরেশন দিতে হবে, সদরঘাটে পন্টুনের সংখ্যা বৃদ্ধি, ফিটনেসবিহীন লঞ্চ বন্ধ, নৌযানের গতি নির্ধারণ করে কন্ট্রোল টাওয়ার স্থাপন, নৌদুর্ঘটনা গবেষণার বিষয়ে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান করার সুপারিশও করা হয়েছে।

গত ২৯ জুন লঞ্চ দুর্ঘটনার দিনই সাত সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের ওই তদন্ত কমিটি গঠন করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

সেদিন সকাল সোয়া ৯টার দিকে ময়ূর-২ এর ধাক্কায় বুড়িগঙ্গা নদীতে মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় ৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

দুর্ঘটনার দিন রাতেই নৌপুলিশ সদরঘাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শামসুল আলম বাদী হয়ে লঞ্চডুবির ঘটনায় অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগ এনে সাতজনের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

Share this post

scroll to top