মেয়ের বিয়ের পোড়া ছবি আছিয়ার সম্বল

আশি বছরের বৃদ্ধ আছিয়া খাতুন। পাকিস্তান আমল থেকে বসবাস করে আসছেন মিরপুরের রূপনগর বস্তিতে। চার ছেলে এক মেয়ে নিয়ে এখানেই তার বসবাস। বুধবার সকালের আগুনে চার রুমের তার বসবাসের ঘরটির পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এমনকি তার ছয় বছরের নাতি রাকিবের সাইকেলটিও পুড়ে কঙ্কাল হয়ে গেছে। ঘরের এক কোণে ঝুলিয়ে রাখা একটি কাপড়ের ব্যাগে আংশিক পোড়া অবস্থায় পেয়েছেন মেয়ের বিয়ের ছবি, বয়স্ক ভাতার কার্ড এবং জাতীয় পরিচয় পত্রটি পেয়েছেন তিনি।

আচ্ছা খাতুন নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘আমগো কোন ভিটেমাটি নাই। পাকিস্তান আমল হইতে আমরা এই বস্তিতে থাকি। গত সাত বছর আগে একবার সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আমগো ঘর ভেঙে দিয়েছিলো। পরবর্তীতে খুব কষ্ট করে আমরা আবার এখানে ঘর তুলে বসবাস শুরু করি। আজকের এই আগুনের ঘটনায় আমরা সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে গেছি।’

তিনি বলেন, ‘একটা সাইকেলের জন্য আমার ছোট নাতিটা অনেক কান্নাকাটি করছে। সবাই মিলে ওরে একটা সাইকেল কিন্না দিছিলাম। সাইকেলটাও পুইড়া ছাই হয়ে গেছে। দু’দিন আগে নাতিটা ফরিদপুর বেড়াইতে গেছে। আইসা সাইকেলের এই অবস্থা দেখলে পোলাডা অনেক কান্নাকাটি করবো।’

আগুনে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার পর এখন কি করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে আসিয়া খাতুন নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘আমার চাইরডা পোলা কেউ বড়লোক না। একজনে ডিম বেছে, একজনে জোতা বেছে আর দু’জনে ডাব বেছে। সবাইর সংসার আছে। কোনমতে সবাই সংসার চালায়। এহন এই বয়সে আইসা কি করমু কিছু বুঝতেছি না।’

আজ রাতে কোথায় থাকবেন এমন প্রশ্নের জবাবে আছিয়া খাতুনের ছেলের বউ নুর নাহার বলেন, ‘আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। কোথায় থাকবো বলতে পারছিনা। কোন আত্মীয় স্বজনের বাসায় থাকব সেটাও সম্ভব না কারণ আমাদের ঘরে আমরা অনেক মানুষ। আপাতত রাস্তার পাশে একটু জায়গা নিয়েছি।’

মিরপুরের রূপনগর বস্তিতে আগুনে সব হারিয়ে নি:স্ব সখিনা বেগম (৪৪)। তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘অল্প বয়সে আমার স্বামী মারা গেছে। আমার একমাত্র ছেলেরে নিয়া আমি এই বস্তিতে ভাড়া থাকি। মানসের বাড়িতে কাজ করি আর আমার ছেলে রিকশা চালায়। আগুন লাগার খবর পাইয়া দৌঁড়াইয়া আসছি। এসে দেখি সব শেষ। কয়টা ডাল চাইল ভিজাইয়া রাইখা গেছিলাম তাও দেহি পুইরা শেষ।’

এখন কোথায় থাকবেন কী করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে সখিনা বেগম বলেন, ‘আগুন লাগার খবর শুইন্ন যেই বাসায় কাজ করি ওই বাসার আপায় ডিম, ডাইল আর ৩ কেজি চাউল কিনে দিছে। থাকার জন্য খাট, বিছনা যা ছিলো সবতো শেষ। এহন দেহি অন্য কোথাও ভাড়া যামু।’

এর আগে বুধবার সকালে রূপনগর বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট তিন ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে কয়েক হাজার মানুষ তাদের বাসস্থান হারিয়েছেন। স্থানীয়রা জানায়, বস্তিতে পাঁচ হাজারের অধিক ঘর আগুনে পুডে নি:শেষ হয়ে গেছে।

Share this post

scroll to top