তারা ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে : মওদুদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য সাবেক মন্ত্রী ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা নির্বাচিত হয়নি রাজনৈতিক দূর্বৃত্তায়ন হয়েছে। ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে। আমরা কোন দেশে বসবাস করছি । আমরা কোন সভ্য দেশে আছি বলে মনে হয়না।

নির্বাচনের পর নেতা কর্মীদের উপর একের পর এক অমানবিক নির্যাতন তাদের স্ত্রীদের গণধর্ষন করছে। এজাহারে নাম না থাকলে ও পুলিশ পুরানো মামলায় নেতা কর্মীদের গ্রেফতার করছে। আজ দেশ অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে।তিনি শুক্রবার সকাল ১১টায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কবিরহাটের গণধর্ষণের শিকার গৃহবধু ৩ সন্তানের জননী পারভীন আক্তারকে দেখতে এসে নোয়াখালী আইনজীবী সমিতি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

এ সময় তার সাথে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ শাহাজাহান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সাবেক চীফ হুইফ জয়নুল আবদীন ফারুক, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দার বিএসসি, সেক্রেটারী আব্দুর রহমান ও ধর্ষিতা নারীকে আইনী সহায়াতাকারী অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ, , সদর উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ভিপি জসিম, নোয়াখালী শহর বিএনপির সভাপতি রাশেল চৌধুরী, কবিরহাট উপজেলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহিম চেয়ারম্যান ও সেক্রেটারী কামরুল হুদা লিটন চৌধুরী ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ আকবর হোসেন দুঃখসহ জেলা বিএনপির নেতা-কমীরা।

মওদুদ বলেন সূবর্নচর ও কবিরহাটের ঘটনায় সম্প্রতি গৃহবধুকে গণধর্ষনের ঘটনাগুলো একই সূত্রে গাথা। এ সবের প্রতিটিই ঘটনার সাথেই সরকারীদলের নেতাকর্মীরা জড়িত। যা দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। এসব ঘটনা সরকারী দলের দূর্বৃত্তায়ন ছাড়া কিছুই না। কবিরহাটের গণধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষিতা পারভীন আক্তারের ডাক্তারী রিপোর্ট সম্পর্কে তিনি ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, যে ঘটনায় মামলার প্রধান আসামী যুবলীগ নেতা ১৬৪ ধারায় ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন সে নিজেও ধর্ষণ করেছেন-সেখানে ডাক্তারী রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত না পাওয়া খুবই দুঃখজনক।এটা মেডিকেল রিপোর্ট নয় এটা রাজনৈতিক রিপোর্ট ।

মওদুদ আহমেদ বলেন, সরকার প্রভাব খাটিয়েছে ডাক্তারদের উপর।তিনি আরো বলেন কবিরহাটের যুবদল নেতা আবুল হোসেনের এজাহারে নাম না থাকলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠায়। আর সরকার দলীয় লোকেরা রাতের অন্ধকারে তার ঘরে ঢুকে স্ত্রীকে একটি কক্ষে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এটা হিংস পৈচাশিক।তিনি বলেন থানায় মামলা করতে গেছে ওসি তার ভিকটিমের পরণের কাপড় পরিবর্তন করে হাসপাতালে পাঠায়। যাতে ধর্ষণের আলামত সঠিক ভাবে পাওয়া না যায়।

মওদুদ আরো বলেন ধর্ষিতা এখন ও অসুস্থ নির্বাক অথচ হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ তার সিট কেটে রিলিজ দেয়। পরে আদালতের নির্দেশে ফের ভর্তি করে।তিনি আরো বলেন এ ঘটনা নিয়ে ধর্ষিতার ৩ সন্তানের মনে কি প্রতিক্রিয়া তারাই জানে।

মওদুদ বলেন প্রধান আসামী ১৬৪ স্বীকারোক্তি দিয়েছে সে এবং তার সাথে কারা কারা ছিল । কিন্তু ঘটনার মোড় অন্য দিকে নেয়ার জন্য ধর্ষিতার আত্বীয়দের গ্রেফতার করেছে রিমান্ডে নিয়েছে। তিনি বলেন দেশে কোন ঘটনায় যদি তাদের লোক জড়িত থাকে ঘটনাটি ঘুরিয়ে দেয়ার জন্য যা দরকার তাহা করছে আ’লীগ। দেশে সরকারের দূর্বৃত্তায়ন চলছে এবং এক সময় সরকারই বিরোধী দলের ভুমিকা পালন করে সরকারীদলকে ধ্বংসের ধারপ্রান্তে নিয়ে যাবে। ধর্ষিতা পারভীন আক্তারকে আমরা পুনবাষণসহ সকল ধরনে সহযোগিতা করবো, এবং আদালতে প্রমান করা হবে গণধর্ষণের বিচার হবে। তিনি বলেন আমরা এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

এ ছাড়া তিনি বলেন ধর্ষিতা পারভীন আক্তারের চিকিৎসা শেষ না হতে হাসপাতাল থেকে তার বের করে দেওয়ার চেষ্টা খুবই দুঃখজনক। তিনি এসব ঘটনায় ডাক্তারদের নিরবতা পালনকে দুঃখজনক মনে করেন।

তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন সম্প্রতি অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পরে কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট আসনে আওয়ামীলীগ সরকারের দলীয় সন্ত্রাসী ক্যাডার বাহিনী কর্তৃক বিএনপি দলীয় নেতা নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন চালিয়ে ৮শ ৪১ জনকে আহত করেছে এবং তাদের দায়ের করা ৪৩টি মিথ্যা মামলা দিয়ে ২ হাজার ৩শ ৬২ জনকে আসামী করে ঘর ছাড়া করছে। বর্তমানে ১শ ৬ জনকে কারাগারে আছে। বিকেলে তিনি জেলা কারাগারে নেতা-কর্মীদের দেখতে যান।বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ শাহা জাহান বলেন ভোটের আগ থেকে প্রশাসন রাজনৈতিক সন্ত্রাসীরা একেকার হয়ে গেছে । নির্বাচনের পর হামলা মামরা অব্যাহত রয়েছে।

নোয়াখালীর করিবহাট উপজেলার ধাঁন সিড়ি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বাসিন্দা নবগ্রামের যুবদল নেতা আবুল হোসেনকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানোর পর গত ১৮ জানুয়ারি আবুল হোসেনের বসত ঘরে , গভীর রাতে ঘরের সিঁদ কেটে স্থানীয় এনামুল হকের পুত্র যুবলীগ নেতা জাকির হোসেনসহ ৪ জনের একদল দূর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে প্রথমে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে অস্ত্রের মুখে বেধেঁ তার ছেলে ও মেয়েকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে এবং আবুল হোসেনের স্ত্রী পারভিন আক্তার কে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

ধর্ষণকারীরা বলে ‘আমরা পুলিশের লোক’ তোমার স্বামীকে জেল থেকে ছেড়ে এনে দিব ব্যাংক থেকে যে টাকা উঠানো হয়েছে সেখান থেকে ৬০ হাজার টাকা দাবী করে। সকালে ঘটনাটি বাড়ীর লোকজন টের পেয়ে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানায় এবং পরে পুলিশকে তারা খবর দেয়। পরে সকালে ধর্ষিতা থানায় গিয়ে নিজে বাদী হয়ে জাকির হোসেন ও অজ্ঞাত ৩ জনসহ মোট ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা করে। গুরুতর আহত পারভীন আক্তারকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় শনিবার অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন কে আটক করেছে।

রোববার বিকেলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন নোয়াখালীর ২নং আমলী আদালতের বিচারক নবনীতা গুহের আদালতে জাকির।পরে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।এ দিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে নোয়াখালী মাইজদী টাউন হল মোড়ে নারি ।মুক্তি আন্দোলন ব্যানারে এক মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তারা দোষীদের গ্রেফতারের দাবী জানিয়ে বলেন এ ঘটনায় যেন কোন নিরাপারধ ব্যাক্তি হয়রানির শিকার না ।

তার আগে শনিবার কবিরহাট উপজেলার স্থানীয় সমিতি বাজারে রোববার দুপুরে মানব বন্ধন পালিত হয় । এ সময় বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, রাজনীতিকসহ দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে ঘন্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালিত হয়।সমাবেশে বক্তরা ধর্ষণকারী যে দলেরই হোক বা যত প্রভাবশালীই হোক না তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে যেন সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা না হয় সে দাবীও জানানো হয়। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে স্থানীয় সাংসদ ও সরকারের সড়ক-পরিবহণ সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বক্তারা আরো বলেন, ঘটনায় সম্পৃক্ত গ্রেপ্তারকৃত জাকির হোসেন ওরফে জহিরসহ অনেকে দলীয় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে এলাকায় ইয়াবা বিক্রি, চুরি সহ নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। পুলিশ সব জানলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বার বার এলাকায় সকল প্রকার অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে তারা।এ দিকে সোমবার কবির হাট থানার পুলিশ ধর্ষিতা পারভিন আক্তারের ভাগ্নে হারুন আর রশিদ, দেবর আবদুর মান্না,ও মামত বোনের জামাই মো: সেলিম গ্রেফতার করে। একই দিন মামলাটি নোয়াখালী ডিবিতে হস্তান্তর হয়। নোয়াখালী ডিবি পুলিশ গ্রেফতার কৃত তিন জনের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। পরে তাদের প্রত্যেককে মঙ্গলবার ৪ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন নোয়াখালী ২ নম্বর আমলী আদালতের বিচারক নবনীতা গুহ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

মঙ্গলবার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে পারভিন আক্তারে সিট কেটে দিয়ে তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়। বিষয়টি ভিকটিমের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রবিউল হাছান পলাশ আদালতের দৃস্টি আর্কষণ করলে । আদালতের নির্দেশে ফের তাকে ভর্তি করা হয়। এ দিকে ভিকটিম পারভিন আক্তার বলেন যারা তার ঘরে প্রবেশ করেছে তাদের মধ্যে জাকির হোসেন কে চিনতে পেরেছি । অবশিস্টদের কে দেখলে চিনব । কিন্তু তার আত্বীয় হারুন,মান্না, সেলিম কেউ এ ঘটনার সাথে জড়িত নয় বলে দাবী করেন তিনি।

তিনি ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার না করে তার আত্বীয়দের হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেন। এ দিকে তিন সন্তানের জননী গণধর্ষণ ঘটনার নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষার প্রতিবেদন বুধবার অফিসিয়ালি জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া-না পাওয়া নিয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খলিল উল্যাহ্ কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হলেও পরবর্বীতে স্বীকার করেন মেডিকেল রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত মেলেনি।

এ দিকে বৃহস্প্রতিবার ভোরে কুমিল্লার দাউদ কান্দি থেকে নোয়াখালী ডিবির ওসি আবুল খায়েরের নেতৃত্বে পুলিশ উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নব গ্রামের আঃ রবের পুত্র জামাল উদ্দিন কে গ্রেফতার করে।এ নিয়ে গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়াল ৫ জনে।।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top