ময়মনসিংহে প্রতারক ইঞ্জনিয়ার ফজলের প্রতারণার শিকার সাধারণ শিক্ষার্থীরা (অডিওসহ)

মো: আব্দুল কাইয়ুম : ময়মনসিংহে কথিত ইঞ্জনিয়ার আবুল ফজলের বিরুদ্ধে আরো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শহরের একটি নামকরা গ্রুপের অটোক্যাড সেকশনে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বপালনকালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাকরি দেয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা আদায়ের চেষ্টা করে। বিভিন্ন প্রজেক্টে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল এমন শিক্ষার্থীদের প্রথমে তার্গেট করতো এই ফজল। কোন কোন শিক্ষার্থীকে চাকরি পাইয়ে দেয়ার নাম করে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা পর‌্যন্ত আদায়ের চেষ্টা করে এই ফজল। কেউ দিতে না পারলে সর্বশেষ ৮ হাজার করে টাকা নিয়ে তার পরিচিত বিভিন্ন কনস্ট্রাকশন হাউজে চাকরি দেয়ার নাম করে অসংখ্য ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে। শুধু তাই নয়,  এই  আবুল ফজল নিজেকে একটি গ্রীণল্যান্ড গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার (সিভিল) হিসেবে দাবি করলেও তার এমন দাবিকে প্রতারণা হিসেবে মনে করছে গ্রুপটি। ময়মনসিংহের প্রতিষ্ঠিত ওই গ্রুপটির দাবি তাদের প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার জন্য ও মানুষের সাথে প্রতারণার জন্য মূলত ফেসবুকে নিজেকে প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার (সিভিল) হিসেবে দাবি করছে। শুধু তাই নয়, শহরের স্বনামধন্য এই গ্রুপটির পরিচয় বহন করে সাধারণ মানুষের সাথেও করছে প্রতারণা। বিল্ডিং এর নকসা করে দেয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে আর কাজ বুঝিয়ে দেননা। অথচ, এসব ঘটনার কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে বা কোন সাংবাদিক নিউজ করলে তাকে এই প্রতারক ফজলেরর বিভিন্ন হুমকিতে পড়তে হয়। সাংবাদিকদের সত্য নিউজ প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করতে বিভিন্ন সময় থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের চেষ্টা করে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট থানা অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে অভিযোগ আমলে না নিলে সে বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের দ্ধারা সাংবাদিকদের হুমকি অব্যাহত রাখে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গ্রুপ ও ব্যক্তির এমন অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে জানাযায়, আবুল ফজলের অধীনে গ্রীণল্যান্ড অটোক্যাড ট্রেনিং সেন্টারে অনেক শিক্ষার্থী ট্রেনিং করতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানে কিছুদিন ট্রেনিং করার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাকরি দেয়ার নাম করে আড়াই লাখ করে টাকা আদায়ের চেষ্টা করতো আবুল ফজল। যেসব শিক্ষার্থী তার চাহিদা মতো টাকা দিতে পারতনা তাদের সাথে ফজলের গন্ডগোল মারামরি পর‌্যায়ে যেতো। ট্রেনিংরত অবস্থায় অবৈধভাবে অনেকের কাছ থেকে কমপক্ষে ৮হাজার করে টাকা দেয়ার জন্য জোর চাপ প্রয়োগ করতো এই ফজল। এতেই ক্ষান্ত থাকতেন না ফজল। এসব শিক্ষার্থীদেরকে চাপে ফেলে ফজল তার বাসার বাজার-সদায়ও করে নিতো।

এমনি এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম তাজমল সরকার। বাড়ি শহরের বাজেকল্পা এলাকায়। ময়মনসিংহ লাইভ অনলাইনে বিগত পর্বে আবুল ফজলের প্রতারণার সংবাদ দেখে প্রথমে তিনি ময়মনসিংহ লাইভকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই আবুল ফজল ২০১৭ সালে তাকে চাকরি দেয়ার কথা বলে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১১টা পরযন্ত বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করাতো। দীর্ঘদিন এভাবে কাজ করার পর নির্দিষ্ট ও স্থায়ী চাকরি চাইলে তিনি আমার কাছে আড়াই লাখ টাকা দাবি করেন। আমি তার প্রস্তাবে রাজি না হলে সে সর্বশেষ আমার কাছে ৮হাজার টাকা দাবি করে। দীর্ঘ ৪ মাস বিনা বেতনে চাকরির পর অবশেষে তার প্রতারণা বুঝতে পেরে তিনি এই প্রতিষ্ঠান থেকে চলে যান। ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতো কিন্তু টাকা আদায়ের কোন রশিদ দিতো না এই আবুল ফজল। প্রতিষ্ঠানের অগোচরে এমনিভাবে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা চালাতো কথিত ইঞ্জিনিয়ার আবুল ফজল। শুধু তাজমল সরকারের সাথেই এমন ঘটনা ঘটেনি। এমন আরো অনেক শিক্ষার্থীই তার প্রতারণার শিকার হয়েছে। কেউ মুখ খুলে কিছু বলতে চাইলেই তার স্থানীয় শ্বশুড় বাড়ির লোকজন দিয়ে ভুক্তভোগীদের হুমকি দিত।

জনস্বার্থে এই প্রতিবেদনের সাথে এক ভুক্তভোগীদের অভিযোগের অডিও প্রকাশ করা হলো-

অপরদিকে, আবুল ফজলের ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি https://www.facebook.com/profile.php?id=100012342879282 তে নিজেকে প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার (সিভিল) হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। অথচ, ওই প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে বলা হচ্ছে সে কখনও প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ছিল না এবং নাইও। সে একসময় ওই গ্রুপের অটোক্যাড সেকশনে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলো।

এ ব্যাপারে স্বনামধন্য ওই গ্রুপের এক পরিচালক জানান, ফজলের সাথে গ্রীণল্যান্ডের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা ফজলকে কখনও প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার (সিভিল) হিসেবে নিয়োগ দেইনি।

অপরদিকে, গত একমাস আগে স্থানীয় ময়মনসিংহ লাইভ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম এর এক আত্বীয়ের একটি বিল্ডিং এর নকশা করে দেয়ার কথা বলে টাকা নেয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হলেও কাজ বুঝিয়ে না দেয়ায় তার কাছে টাকা ফেরত চাইলে সে উল্টো মামলা করার হুমকি দেয়। জানাযায়, ভুক্তভোগী যারাই তার অনিয়মের প্রতিবাদ করে তাদেরকেই সে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির চেষ্টা করে।

এব্যাপারে ময়মনসিংহর জনপ্রিয় অনলাইন নিউজপোর্টাল ময়মনসিংহ লাইভ এর সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, সত্য সংবাদ প্রকাশ করায় আবুল ফজল বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। তারই এক লোক জানিয়েছে, সে থানায়ও গিয়েছিল মিথ্যা মামলা দায়ের করতে। আমার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে যারা বিভিন্ন মিথ্যা মামলা ও অভিযোগ তুলছিল ও পরবর্তীতে নিজেদের দোষ স্বীকার করছিলো সেসব প্রভাবশালীদের দ্ধারা মামলা রেকর্ড করাতেও ষড়যন্ত্র করে বিভিন্ন জায়গায় দৌড়ঝাপ করছে এখনও। কিন্তু ময়মনসিংহের পুলিশ প্রশাসন খুবই দক্ষ হওয়ায় তারা নিউজ ও তার অভিযোগ দেখেই আন্দাজ পারে তার সম্পর্কে। বরংচ সে অপরাধ করে থানায় মামলা করতে গিয়ে নিজের দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। এদিকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফজলের মতো কালপিটরা মিথ্যা মামলা দায়ের করার অপচেষ্টা চালিয়ে ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্ট এর ব্যথ্যয় ঘটাচ্ছে। এদের প্রতিহত করতে অবশ্যই স্থানীয় প্রশাসনসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

প্রিয়পাঠক, এর পরের পর্বে থাকছে- বিভিন্ন প্রজেক্টের নামে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছ থেকে আবুল ফজল লোন বাবদ ও শেয়ার দেয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের নির্দিষ্ট অভিযোগসহ প্রতারণার খবর। সত্য, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ট সংবাদ প্রকাশে আমরা আপনার কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ। আপনার সহযোগীতা আমাদের পথ চলাকে আরো সহজ করবে। সাথে থাকায় ময়মনসিংহ লাইভ পরিবার আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ।

আগের পর্বের নিউজ এর লিংক পাঠকের সুবিধার্থে নিচে দেয়া হলো:-

ময়মনসিংহে ইন্জিনিয়ার পেশার আড়ালে ফজলের প্রতারণা ব্যবসা! (অডিওসহ)

error: প্রিয়জন; আপনি লেখা কপি করতে চাচ্ছেন!! অনুগ্রহ করে তা থেকে বিরত থাকুন। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।