ময়মনসিংহে ঈদ জামায়াতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে : র‌্যাব মহাপরিচালক

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ বলেছেন, এবার আবহাওয়া খারাপ থাকলে ঢাকার প্রধান ঈদের জামায়াত হবে বায়তুল মোকাররমে। বায়তুল মোকাররমসহ ঢাকা শহরের প্রধান প্রধান ঈদের জামায়াতের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে র‌্যাব। বিশেষ করেময়মনসিংহে ঈদ জামায়াতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে ঈদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ঈদে সবচেয়ে বেশি মানুষের অংশগ্রহণে ঈদ জামায়াত হচ্ছে দিনাজপুর ও ময়মনসিংহে। সঙ্গত কারণে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হয়। এক্ষেত্রে র‌্যাব নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ঈদগাহে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে। ডগস্কোয়াড থাকবে। সুইপিং করা হবে। পোশাকের বাইরে সাদা পোশাকেও র‌্যাব সদস্যরা মোতায়েন থাকবে। ঢাকার বাইরেও প্রধান প্রধান ঈদ জামায়াতে কঠোর নিরাপত্তা গ্রহণ করেছে র‌্যাব।

যত্রতত্র পশু কোরবানি না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে র‌্যাব ডিজি বলেন, আমাদের সিটি কর্পোরেশন ভালো কাজ করছে। অনুরোধ থাকবে, প্রিয় রাজধানীর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক নির্ধারিত স্থানের বাইরে, সড়কে, বাসার গ্যারেজে পশু কোরবানি দেবেন না। সারা দেশে ১৮ হাজার গরুর হাট বসছে। এরমধ্যে সাড়ে ৫শ গরুর হাট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সারাদেশে এক কোটির বেশি কোরবানি হয়। শুধু রাজধানীতেই ৫ লক্ষাধিক গরু কোরবানি হয়। লাখো মানুষ কোরবানির পশু ক্রয় করবেন। গরু ব্যবসায়ীরা যেন নির্বিঘ্নে কোরবানির পশু হাটে আনতে পারেন, বিক্রি করতে পারেন, যারা ক্রেতা সাধারণ নির্বিঘ্নে গরু ক্রয় করতে পারেন সেজন্য গরুর হাটগুলোতে নজরদারি রাখছে র‌্যাব। এছাড়া হাসিলের বেশি টাকা আদায় না করা, অজ্ঞানপার্টি, মলমপার্টি, জাল টাকা যেন হুমকি হতে না পারে সেজন্য কাজ করছে র‌্যাব।

তিনি আরও বলেন, এবার অনলাইনে কোরবানির পশু ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে এটা ভালো দিক। আগামীতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মনিটরিংয়ে কোরবানির পশু অনলাইনে ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়টিকে উৎসাহিত করা যেতে পারে। কোরবানির পশুর চামড়া যাতে পাচার না হয় সেজন্য কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে র‌্যাব। তবে পশুর চামড়া পাচারের আগে নির্ধারণ করতে হবে চামড়ার দাম। অনেকে ব্যাংক ঋণ নিয়ে চামড়া ব্যবসা করতে গিয়ে দেওলিয়া হয়েছেন। সেজন্য যারা চামড়ার ব্যবসা করেন তাদের অনুরোধ করবো চামড়ার দাম আগে নির্ধারণ করুন।

র‌্যাব ডিজি বলেন, গত বছর ঈদযাত্রা তুলনামূলক বেশ আরামদায়ক ছিল। এবার সমস্যা তৈরি করেছে বন্যা। দেশের মধ্যম অঞ্চলে তিন সপ্তাহব্যাপী বন্যায় দুই হাজারের সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩শ’ কিমি রেলপথ। এবার রেলপথ, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়, সরকার ও সর্বোপরি আমরা সবাই চেষ্টা করছি এবার যাতে ঈদযাত্রা মোটামুটি সহনীয় রাখা যায়। টার্মিনাল, লঞ্চ টার্মিনাল, রেল স্টেশনকেন্দ্রীক র‌্যাবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও মনিটরিং রয়েছে। গতকাল পর্যন্ত সদরঘাট কেন্দ্রীক চাপ ছিল। আজও পর্যাপ্ত লঞ্চ রয়েছে। সবাই যাতে বাড়ি যেতে পারেন সেই উদ্যোগ ও নজরদারি আমাদের রয়েছে।

তিনি বলেন, সড়কে এলেঙ্গায় চাপ রয়েছে। টোল প্লাজায় চাপ, সাভার-নবীনগর ও সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এলাকাতেও চাপ রয়েছে। এসব এলাকায় যাতে যানবাহনে গতি থাকে সেজন্য পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে র‌্যাবও কাজ করছে। যাতে করে মানুষ স্বাভাবিকভাবে বাড়ি ফিরতে পারে।

সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে র‌্যাব ডিজি বলেন, ‘তিন নম্বর সতর্ক সংকেত রয়েছে। ওয়েদার ফোকাস দেখলে বুঝবেন, ঈদের সময়ে ৩/৪ দিন প্রতিদিনই বৃষ্টি ঝড়ের পূর্বাভাস রয়েছে। সেজন্য রাতে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে ওভার লোডেড লঞ্চ না চলে। যাত্রীদের অনুরোধ করবো, ওভার লোডেড হয়ে লঞ্চে চলাচল করবেন না। ঘরমুখী যাত্রীরা দয়া করে ঝুঁকি নেবেন না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওয়ানওয়ে চলাচল করবেন না। আমাদের পক্ষ থেকে, নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সবাই মিলে চেষ্টা করবো ঝুঁকিপূর্ণভাবে যেন নৌ চলাচল না হয়। দেশের দুর্ঘটনাপ্রবণ ৪২ স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে বিশেষ নজরদারি রাখবে র‌্যাব। ঈদ পরবর্তীতে যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে সেজন্য চালক ও যাত্রীদের সতর্ক সজাগ থাকতে হবে। রাইডের নামে জীবন খোয়াবেন না।

ডেঙ্গু প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে র‌্যাব জিডি বলেন, প্রতিটি ব্যাটালিয়নে একজন করে ডেঙ্গু প্রিভেনশন কর্মকর্তা নিয়োগ করেছি…যাতে করে আমাদের প্রত্যেকটি সদস্য সতর্ক থাকে, ডেঙ্গু আক্রান্ত না হয়। আমি অনুরোধ করবো, প্রত্যেকটি সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কমিটি করা হয়, ডেঙ্গু প্রিভেনশনের জন্য কোনো কর্মকর্তাকে অ্যাসাইন করা হয়। আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে ডেঙ্গু কোনো সমস্যা না।

ঈদে ও ঈদ পরবর্তী ফাঁকা রাজধানীর নিরাপত্তা, জাতীয় শোক দিবস ও জন্মাষ্টমীতেও নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে র‌্যাব।

sadman travels
error: প্রিয়জন; আপনি লেখা কপি করতে চাচ্ছেন!! অনুগ্রহ করে তা থেকে বিরত থাকুন। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Facebook