ময়মনসিংহের গর্ব আবুল মনসুর আহমদের ১২২তম জন্মদিন আজ

Abul-Mansur-Ahmadআজ ৩ সেপ্টেম্বর উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমদের ১২২তম জন্মদিন। ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল থানার ধানীখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বিদ্রূপাত্মক রচয়িতা আবুল মনসুর আহমদ ছিলেন একাধারে একজন সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ, আইনজ্ঞ ও সাংবাদিক।

তিনি ১৯৪৬-এ অবিভক্ত বাংলার কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘ইত্তেহাদ’-এর সম্পাদক ছিলেন এবং তৎকালীন ‘কৃষক’ ও ‘নবযুগ’ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এক কথায় আধুনিক ও প্রগতিশীল সাংবাদিকতার এক অগ্রপথিক।

অত্যন্ত সফল রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমদ ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৫৮ পর্যন্ত আওয়ামী মুসলিম লীগের সহসভাপতি ছিলেন। তিনি যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী কর্মসূচি ২১-দফার মূল প্রণেতা। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের মনোনয়নে পূর্ববঙ্গ পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৫৪ সালে তিনি ফজলুল হক মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হন। ১৯৫৫ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে পূর্ববঙ্গ পরিষদের সদস্যদের ভোটে পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের যুক্তফ্রন্ট সরকারের শিক্ষামন্ত্রী এবং ১৯৫৬-৫৭ সালে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করার পর তিনি কারারুদ্ধ হন এবং ১৯৬২ সালে মুক্তি পান। এর কয়েক বছর পর তিনি রাজনৈতিক জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন। পূর্ববাংলার স্বার্থের স্বপক্ষে শক্ত অবস্থান ও নানাবিধ উদ্যোগের জন্য, বিশেষ করে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য।

তার রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে বিখ্যাত বিদ্রূপাত্মক বই ‘আয়না’, ‘আসমানী পর্দা’, ‘গালিভারের সফরনামা’ ও ‘ফুড কনফারেন্স’। ‘বাংলাদেশের কালচার’সহ আরও রয়েছে বাংলার সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের ওপর বিখ্যাত রচনাবলি। তার আত্মজীবনীমূলক দুটি গ্রন্থ হচ্ছে ‘আত্মকথা’ ও ‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’। ডেইলি স্টার বুকস থেকে বের হয়েছে নুরুল আমিন সম্পাদিত ‘আবুল মনসুর আহমদের শ্রেষ্ঠগল্প’। প্রথমা থেকে প্রকাশিত হয়েছে আবুল মনসুর আহমদ স্মারকগ্রন্থ। তাছাড়া তার বেশ কিছু রচনা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা, ইতিহাস ও পলিটিক্যাল সাইন্স বিভাগে পাঠ্য।

উল্লেখ্য, আবুল মনসুর আহমদের তিনটি দিক নিয়ে তিনটি বিভাগে প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সারা দেশে বিপুল সাড়া পাওয়া যায়। বিচার কাজ চলছে, এতে প্রতিটি বিভাগে তিনজন করে ৯ জন বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। আপডেট পাওয়া যাবে আবুল মনসুর আহমদ নামে ফেসবুক পেজে। তিনি ১৯৭৯ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।