বজ্রপাতে পিতা-পুত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু

কয়েকদিন আগে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে পিতা-পুত্রের মর্মান্তিক মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই আবারো উপজেলায় বজ্রপাতে পিতা-পুত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একের পর এক বজ্রপাতে নিহতের ঘটনায় শংকিত মানুষ দ্রুত বজ্রনিরোধক যত্র স্থাপনের দাবী জানিয়েছে। শুক্রবার ভোর ৬ টায় উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রাম সংলগ্ন রৌয়ার হাওরে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম ভানু মিয়া (৪২) ও তার ছেলে সুমন মিয়া (১৫)। তাদের বাড়ি উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামে।

গ্রামবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার অনুমানিক ভোর ৬টায় ভানু মিয়া তার ছেলেকে নিয়ে শান্তিপুর গ্রাম সংলগ্ন রৌয়া হাওরে নৌকা নিয়ে পাতানো জাল তুলতে যায়। এ সময় হালকা বৃষ্টি ও আকাশ ফাটা বজ্রশব্দ হচ্ছিল। আকাশ শান্ত হলে গ্রামের লোকজন বাড়ির সামনে এসে দেখে মানুষ ছাড়াই একটি নৌকা রৌয়ার হাওরে ঘুরছে। গ্রামবাসীর সন্দেহ হলে ছোট নৌকা নিয়ে হাওরের ওই নৌকার কাছে যান।

এ সময় নিহতের বাড়ির লোকজন গ্রামের লোকজনকে জানায়- ভানু ও তার ছেলে জাল তুলতে গিয়েছিল। নৌকায় ভানু মিয়া ও তার পুত্রকে না পেয়ে গ্রমবাসী বড় ক্ষুনাজাল দিয়ে অনেক খুঁজাখুঁজির পর নিহত পিতা-পুত্রের লাশ পানির নীচ থেকে উদ্ধার করে। বজ্রপাতে পিতা-পুত্রের নির্মম মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা ও শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা পাল জানান, বজ্রপাতের সতর্কীকরণের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে মাইকিং করে দেয়া হচ্ছে। জুমআ নামাজে সকল মসজিদে মহান আল্লাহর নিকট বিশেষ মোনাজাত করা হবে। শোকাহত পরিবারের প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা ও তাদেরকে প্রাথমিক ভাবে নগদ ৫ হাজার টাকা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেয়া হবে জানান।

উল্লেখ্য, গত ১০ জুলাই উপজেলার চাইল্ড কেয়ার কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী অন্তর চৌধুরী ও তার পিতা সাবিদুর চৌধুরী স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে হেলিপ্যাড মাঠে বজ্রপাতের শিকার হয়ে মারা যান।

sadman travels
error: প্রিয়জন; আপনি লেখা কপি করতে চাচ্ছেন!! অনুগ্রহ করে তা থেকে বিরত থাকুন। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Facebook