ফোবানাকে বিতর্কিত করার কোনো সুযোগ নেই : জাকারিয়া চৌধুরী

শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে ‘ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা ( ফোবানা ) সম্মেলন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে উঠা বাংলাদেশীদের সংগঠনগুলোর সমন্বয় হয়েছে ফোবানায়। তাই ওখানকার বাংলাভাষীদের কাছে এই সম্মেলন বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়ে থাকে। এর আগে আরো ৩২টি সম্মেলন হয়েছে। সেই হিসেবে এবার হচ্ছে ফোবানার ৩৩তম সম্মেলন। কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন সংগঠনটির এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি জাকারিয়া চৌধুরী। সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে তার সাথে কথা বলেছেন আলমগীর কবির

‘আওয়ার চিলড্রেন আওয়ার প্রাইড’ এই প্রতিপাদ্য সামনে নিয়ে এ ৩০ আগস্ট শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে উত্তর আমেরিকায় ফোবানা সম্মেলেন। তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন শেষ হবে ১ সেপ্টেম্বর। উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত বাংলাদেশিদের সংগঠনগুলোকে একই ছাতার নিচে নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে ১৯৮৭ সালে যাত্রা শুরু করে ফোবানা। জাকারিয়া চৌধুরী বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথে বাংলাদেশের একটা সেতুবন্ধন হলো এই ফোবানা। এর মাধ্যমে প্রবাসীদের মাঝে বাংলাদেশি সংস্কৃতির একটা আদান প্রদান তৈরি হয়েছে। শুধু আমেরিকাতে নয় কানাডা, মেক্সিকোসহ অর্থাৎ পুরো উত্তর আমেরিকাজুড়ে কাজ করে আমাদের এই সংগঠন। উত্তর আমেরিকাতে যে বিভিন্ন সংগঠন রয়েছে সেসব সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন তারাই হচ্ছে আমাদের সদস্য। ওইসব সংগঠনের প্রেসিডেন্ট অথবা সেক্রেটারি আমাদের সংগঠনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে থাকেন। তাদের ভোটেই ফোবানার নেতা-নেত্রীরা নির্বাচিত হয়ে থাকেন।

ফোবানা নিয়ে বিতর্ক : জাকারিয়া চৌধুরী বলেন, একটি মহল ফোবানাকে বিতর্কিত করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা অনৈতিক, অনৈতিক বেআইনী। কারণ ফোবানা হচ্ছে একটি ফেডারেল ট্রেডমার্ক কৃত অর্গানাইজেশন। ইচ্ছে করলেই এই নাম অন্যকেউ ব্যবহার করে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারবে না।

ফোবানা নিয়ে কয়েক মাস আগে একটা বিতর্ক শোনা গেছে। এ প্রসঙ্গ জাকারিয়া চৌধুরী বলেন, গতবছর আটলান্টায় যারা ফোবানা করেছিলেন তাদের এককজন মো. শাহনেওয়াজ। তিনি নিয়ম ভঙ্গ করে ফোবানার নাম বিক্রি করে এটাকে করপোরেশন করতে চেয়েছিলেন। এটা নিয়েই ফোবানায় কিছুটা বিতর্ক তৈরী হয়েছিলো। আমরা মার্কিন ফেডারেল আদালতে ‘ট্রেডমার্ক বায়ুলেশনের দায়ে এ নিয়ে একটি মামলাও করেছি।

অনুষ্ঠানের সময় যেভাবে নির্ধারিত হয় : জাকারিয়া চৌধুরী বলেন, প্রতি বছর ফোবানার কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। আমেরিকায় লেবার ডে উইকেন্ড নামে একটি বিষয় আছে। এই লেবার ডে উইকেন্ডে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এবার এটা পড়েছে আগস্টের ৩০ ও ৩১ তারিখ এবং সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ। এই তিন দিন এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে। এবার ফোবানার ৩৩তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতিপূর্বে আরও ৩২টি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিউইয়র্ককে বলা হয়ে থাকে বিশ্বের রাজধানী। এই নিউইয়র্কে এবারের সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর এবার এই সম্মেলনটি হোস্ট করতে যাচ্ছে পুরনো নামি সংগঠন ড্রামা সার্কেল। তাদের আয়োজনেই এবারের সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন স্টেটে ঘুরে ঘুরে ফোবানার সম্মেলনটি হয়ে থাকে। এবার এই সংগঠনের একটি বিশেষ দিক রয়েছে।

বিশ্ব বিখ্যাত ভেন্যু : এবার নিউইয়র্কের যে হলটিতে আমরা সম্মেলনটি করছি সেটি হচ্ছে বিশ্বের বিখ্যাত ১০টি ভেন্যুর মধ্যে একটি। নাম নাসাও কলেসিয়াম। এর দর্শক ধারণক্ষমতা হচ্ছে সাড়ে ১৭ হাজার। আমরা আশা করছি সেখানে কমপক্ষে ১৫ হাজার দর্শক সমাগম হবে আমাদের ফোবানা সম্মেলনে। এটা আমাদের জন্য প্রেস্টিজিয়াস।

ফোবানায় কি হয় : ‘ফোবানা’ বা ‘ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা’ শুধুই সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এ বিষয়ে সংগঠনটির এই এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি জাকারিয়া চৌধুরী বলেন, অনেকের ধারণা ফোবানার কার্যক্রম সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ, এটি একেবারেই সঠিক নয়। একবারে প্রারম্ভিক অবস্থায় যখন শুরু হয়েছিল তখন হয়তো সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। কিন্তু আজকে ফোবানার ডালপালা অনেক বিস্তৃত।

এবার যেসব কর্মসূচী থাকছে : এই সম্মেলনের তিন দিনব্যাপী আয়োজনে থাকছে, মুক্তিযুদ্ধের উপর বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, কাব্য জলশা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অ্যালামনাই রি ইউনিয়ন, কবি সমাবেশ, বিজনেস নেটওয়ার্ক লাঞ্চ, ফেবানা এক্সপো, ফোবানা স্কলাশিপ, মিউজিক আইডল, মিস ফোবানা, ফোবানা ইউথ কনফারেন্স সহ বিভিন্ন কর্মসূচী।

কিভাবে কাজ করে : জাকারিয়া চৌধুরী বলেন, আমাদের ফোবানার সেন্ট্রাল কমিটিতে ২৫টা সাব কমিটি রয়েছে। যেমন- বিজনেস সাবকমিটি, মিডিয়া সাবকমিটি, কালচারাল সাবকমিটি এ রকম অনেক সাবকমিটি রয়েছে। যারা সারা বছরব্যাপী কাজ করে যাচ্ছে। স্কলারশিপ একটা সাব কমিটি রয়েছে। এক সময় একটা ধারণা ছিল যে ফোবানা শুধু নাচগানের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু তা নয় ফোবানা এখন অনেক কাজ করে যাচ্ছে উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসীদের সাথে নিয়ে। সম্মেলনে বিজনেস নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট হয়। যেখানে বাংলাদেশ থেকে ব্যবসায়ীরা যায় এবং সেখানে মার্কিন ব্যাবসায়ীদের সাথে একটা সেতু বন্ধন তৈরি হয়। অনেক রকম ট্রেড ইনভেস্টমেন্ট সম্পর্কিত চুক্তি সম্পন্ন হয়। এতে দুপক্ষই লাভবান হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

ফোবানা মেধাবী ছাত্রদের জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থাও করে থাকে। মাসিক হারে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণের অর্থ প্রদান করা হয় স্কলারশপি কমিটির মাধ্যমে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্কলারশিপ কমিটির মাধ্যমে আমরা সেসব বাংলাদেশি বাচ্চারা সেখানে জন্মগ্রহণ করছেন বা পড়ছেন তাদের মধ্য থেকে আমরা নির্বাচিত করে স্কলারশিপ দিয়ে থাকি। মেধা তালিকার ভিত্তিতে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই নির্বাচন করা হয়ে থাকে। আমরা ১০ জনকে স্কলারশিপ দিয়ে থাকি।
এতদিন এই সুযোগ প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ভবিষতে বাংলাদেশেও এই স্কলারশিপ চালু করতে ইচ্ছুক ‘ফোবানা’ বা ‘ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা’।

এ প্রসঙ্গে জাকারিয়া চৌধুরী বলেন, আমার এই স্কলারশিপ দেশে চালু করা যায় কি না তা নিয়ে ভেবেছি। আমরা খুব শিগগিরই দেশে এই স্কলারশিপ চালু করব। আমেরিকায় যে ছাত্র পড়াশোনা করে তারা আমেরিকা গভর্নমেন্ট থেকে অনেক রকম স্কলারশিপ পায়। আমেরিকাতে যারা থাকে তারা অনেকেই অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ। সেই ক্ষেত্রে আমরা যদি বাংলাদেশের একটা ছেলেকে এই স্কলারশিপের এক হাজার ডলার দেই তাহলে সে অনেক বেশি উপকৃত হবে বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশে যা প্রায় ৮৫ হাজার টাকা। এটা দিয়ে কিন্তু একজন ছাত্র তার সারা বছরের পড়াশোনা চালাতে পারে বাংলাদেশে। অথচ আমেরিকাতে এক মাসও চলে না। আমরা বর্তমানে ১০ জনকে ১ হাজার ডলার করে স্কলারশিপ দিয়ে আসছি। কিন্তু আমরা এখন চিন্তা করছি যে আমরা ২০ জনকে ১ হাজার ডলার করে দিব খুব শিগগিরই।

মিস ফোবানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৮ বছর বয়সী যে কোন বাংলাদেশী তরুণী এই প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণের জন্য আবেদন করতে পারেন। ফোবানা মিউজিক আইডলের ক্ষেত্রে বাংলা গান গাইতে পারেন এমন যে কেউ আবেদন করতে পারেন।

Share this post

scroll to top