1. kaium.hrd@gmail.com : ময়মনসিংহ লাইভ ডেস্ক : ময়মনসিংহ লাইভ ডেস্ক
পররাষ্ট্র ক্যাডারেই নিজের স্বপ্ন সাজিয়েছিলো বাকৃবির মেহেফুজুল
রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:৩৫ অপরাহ্ন

পররাষ্ট্র ক্যাডারেই নিজের স্বপ্ন সাজিয়েছিলো বাকৃবির মেহেফুজুল

তানিউল করিম জীম, বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৪
BAU STUDENT

সবাই বলতো পররাষ্ট্র ক্যাডার চয়েস দিয়ে ভাইভাতে ভালো না পারলে নাকি ফেল করিয়ে দেওয়া হয়৷ তাই অধিকাংশই প্রশাসন ক্যাডারকে প্রথম চয়েস হিসেবে দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। আমি ছিলাম তার বিপরীতে। পররাষ্ট্রতেই নিজের স্বপ্নগুলো সাজিয়েছিলাম কথাগুলো বলছিলেন সম্প্রতি প্রকাশিত ৪৩ তম বিসিএসের পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া মো. মেহেফুজুল ইসলাম।

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার দেবখন্ড গ্রামের মো. আ. মজিদ এবং মোছা. মনোয়ারা বেগমের ছেলে মেহেফুজুল ইসলাম। দেবখন্ড রিয়াজুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয় এবং সরকারি শাহ এয়তেবাড়িয়া কলেজের গন্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে ফিশারিজ বায়োলজি এন্ড জেনেটিক্সে বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি বগুড়ার সান্তাহার শাখার সোনালী ব্যাংক পিএলসির সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে মেহেফুজুল বলেন, ৩৮ তম বিসিএস ছিলো আমার প্রথম বিসিএস৷ সবেমাত্র অনার্স শেষ করেছি। অনার্স ফাইনাল ইয়ারের শুরু থেকেই চাকরির পড়াশোনা শুরু করেছিলাম। প্রিপারেশন খুব ভালো ছিলো৷ আল্লাহর রহমতে প্রিলি পাস করলাম। এরপর জীবনে বড় একটা সিদ্ধান্ত নিলাম। প্রেমিকাকে বিয়ে করে ফেললাম পারিবারিক প্রয়োজনে। বেকার অবস্থায় বিয়ে করেছি তাই আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব কাউকেই জানানো হয়নি প্রাথমিকভাবে। শুরু হলো ৩৮ তম বিসিএস রিটেন পরীক্ষা। পাশাপাশি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার রিটেন দিলাম। সেই সাথে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটেও (বিএফআরআই) রিটেন পরীক্ষা দিলাম। সবগুলো রিটেনেই উত্তীর্ণ হলাম৷ নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকলো। হঠাৎ কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটলো জীবনে ঠিক ৩৮ তম বিসিএস ভাইভার আগে। যে কারণে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেললাম। ভাইভাটা আর আশানুরূপ ভালো দেওয়া হলো না। ফাইনাল রেজাল্ট যেদিন দিলো ঐদিন পরিবারের সবাই অনেক আশা নিয়ে রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা করতে থাকলো। কিন্তু হতাশ যে কোন ক্যাডার আসলো না। নন ক্যাডারে আসলো৷ সিনিয়র অফিসার আর বিএফআরআই ভাইভাতেও আসলো না৷ অনেক হতাশ হয়ে পড়লাম৷ তারপরেও মনে হলো যে হয়তো কোন নন ক্যাডারে আসবে৷ আশা নিয়ে থাকলাম৷ কিন্তু ভাগ্য সহায় হলো না৷ পরপর ৫ টি লিস্ট দিলো, একটাতেও আসলো না। সবাই বলাবালি শুরু করলো বিয়ে করেছি বলেই আজকে এই অবস্থা আমার৷ অনেকেই বলতে লাগলো প্রাইভেট জবের জন্য চেষ্টা করতে ৷ এর মধ্যেই ৪০ তম বিসিএসের প্রিলি পাস করে রিটেন দেওয়া ছিলো৷ সেটাতেও ফেল করলাম৷ বাধ্য হয়েই প্রাইভেট কিছু প্রতিষ্ঠানে ভাইভা দিলাম। জব কনফার্মও করলো তারা। কিন্তু নিজেই মেনে নিতে পারছিলাম না যে প্রাইভেটে জয়েন করবো। সিদ্ধান্ত নিলাম যা আছে কপালে আমি চেষ্টা করে যাবে শেষ পর্যন্ত।

এর মধ্যেই শুরু হয়ে গেলো করোনা মহামারী৷ বাবা মার প্রতি কর্তব্য, স্ত্রী প্রতি দায়িত্ববোধ, নানা জনের কটু কথা সবমিলিয়ে লাইফটা ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠলো৷ মহামারী শেষ হয়ে গেলে ব্যাংকসহ অন্যান্য পরীক্ষাগুলোর দিকে ফোকাস করলাম৷ স্টাডি গ্রুপ মেইনটেইন করলাম আমার মতোই কিছু চাকরী প্রত্যাশীদের নিয়ে। শেষ পর্যন্ত আল্লাহর অশেষ রহমতে জীবনের প্রথম চাকরি পেলাম সিজিএতে অডিটর হিসেবে। এর কয়েকমাস পরে চাকরি হলো সোনালী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে।

ইতোমধ্যেই ৪১ তম রিটেন পাস করেছি আর ৪৩ প্রিলি পাস করে রিটেন দিয়েছি। অডিটে চাকরি ছেড়ে দিয়ে ব্যাংকে জয়েন করলাম৷ কিন্তু এতোকিছুই মাঝেও জীবনের কিছু বেদনাদায়ক ঘটনায় মানসিক স্বস্তি বলতে কিছুই ছিলো না৷ ৪১ তম বিসিএসে প্রথম ফরেন ভাইভা দিলাম। ৩৮ তম আর ৪০তম বিসিএসের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে জীবনে যতগুলো বিসিএস দিবো সবগুলোতে প্রথম চয়েস দিবো পররাষ্ট্র। ভাইভা বোর্ড অনেক ফ্রেন্ডলি ছিলো, কনফিডেন্স সহকারে যা কিছু জানি উত্তর করেছি আর না পারলে সরি বলতে কার্পণ্য করি নি। যেদিন ৪১ এর রেজাল্ট দিলো ওইদিন ব্যাংকের ট্রেনিং ছিলো আমার৷ ট্রেনিং শেষে যখন বাড়ি যাচ্ছিলাম তখন সৃষ্টিকর্তার কাছে একটা জিনিসই চাইতেছিলাম যেনো আমি বাসায় গিয়ে মা বাবা কে একটা ভালো খবর দিতে পারি। আলহামদুলিল্লাহ ৪১তম বিসিএসে মৎস্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হই। এর কয়েকমাস পর আবার ৪৩ তম বিসিএস ভাইভার ডাক পাই। ৪১ তম বিসিএসের ভাইভা অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্টাডি প্ল্যান তৈরি করে ফেলি৷ আমার প্রস্তুতি ছিলো ইন্টারনেট এবং টেকনোলজি নির্ভর। স্টাডিপ্ল্যান অনুযায়ী টপিকগুলো অনলাইন আর্টিকেল, বিভিন্ন ওয়েবসাইট, ইউটিউব থেকে দেখে নিতাম এবং নিজে নোট করে রাখতাম। বইয়ের উপর এতো নির্ভরতা ছিলো না। সেই সাথে একজন বান্ধবীর সাথে গ্রুপ স্টাডি করি। তারও ফার্স্ট চয়েস ছিলো ফরেন অ্যাফেয়ার্স ৷ সমসাময়িক বৈশ্বিক বিষয়গলো একসাথে দুইজন আলোচনা করে স্টাডি করতে থাকি৷ পাশাপাশি নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে ইংরেজিতে উত্তর করার প্র্যাকটিস করতে থাকি। ৪৩ ভাইভাটাও আগের মতোই দীর্ঘ হলো। ২৫ মিনিটের মতো বোর্ডে ছিলাম। সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতি, প্রবলেম সলভিং, নিজে পঠিত বিষয়, নিজ কর্মস্থল সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন জিজ্ঞাসাবাদ করে৷ আমি যতটুকু জানি চেষ্টা করেছি ইংরেজিতে উত্তর করার কারণ ৮০% প্রশ্নই ইংরেজিতে ছিলো। আর কিছু না পারলে সরি বলেছি। অবশেষে ৪৩ তম বিসিএস রেজাল্ট দিলো আর যখন নিজের রোলটা খুঁজে পেলাম পররাষ্ট্র লিস্টে তখন অনেকটা স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছিলো। ভাবতেই পারছিলাম না যে স্বপ্নটাকে এইভাবে সত্যি হয়ে গেলো। সৃষ্টিকর্তার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই।

তিনি বলেন, আমি মনে করি জীবনে সফলতার জন্য ৩ টা জিনিসের প্রয়োজন। প্রথমটি হলো আত্মবিশ্বাস। দ্বিতীয়টি হলো লক্ষ্য অর্জনের জন্য ডেডিকেশন। আর তৃতীয় জিনিস যেটা অবশ্যই প্রয়োজন তা হলো সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ। তার অনুগ্রহ ছাড়া কোন কাজেই সফল হওয়া সম্ভব না।

বিসিএস ফরেন অ্যাফেয়ার্স যাদের স্বপ্ন তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমার পক্ষ থেকে কিছু দিকনির্দেশনা এই যে নিজেকে আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তুলুন৷ ইংরেজিতে দক্ষতা বৃদ্ধি করুন। প্রতিদিন ইংরেজি নিউজপেপার যেমন- ডেইলি স্টার, ফিনানশিয়াল এক্সপ্রেস, দ্য বিজিনেস স্ট্যান্ডার্ড পড়ার অভ্যাস করুন। সমসাময়িক বিশ্ব সম্পর্কে আপডেট থাকবেন সবসময়। বিশ্ব মানচিত্র সম্পর্কে ভালো আইডিয়া থাকতে হবে অবশ্যই। যেহেতু বিসিএস পরীক্ষা তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়- প্রিলিমিনারি, রিটেন এবং ভাইভা। তাই প্রথম কাজটি হলো প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া৷ প্রিলিমিনারি প্রিপারেশনের জন্য প্রচলিত সহায়িকা বইগুলোর যেকোনটাই ফলো করতে পারেন আর পাশাপাশি বেশি বেশি মডেল টেস্ট দিতে হবে যেনো নিজের প্রস্তুতিকে মূল্যায়ন করা যায়৷ এর পর রিটেন পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রিটেনে আপনি যত এগিয়ে থাকবেন আপনার ক্যাডারপ্রাপ্তির সম্ভাবনা তত বেশি থাকবে৷ এখানে সবগুলো সাবজেক্টই গুরুত্বপূর্ণ। সমানভাবেই সবগুলো সাবজেক্ট এর প্রিপারেশন নেওয়া দরকার। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কিভাবে সুন্দরভাবে উত্তর উপস্থাপন করা যায় এই প্র্যাকটিস করতে হবে।

বাবা মা বলতেন ছোটবেলাই নাকি কোন আত্মীয়র বাসায় বেড়াতে নিয়ে গেলে সেখানে বইয়ের টেবিলে গিয়ে বইগুলো নিয়ে বসে থাকতাম। তাদের অনেক স্বপ্ন ছিলো ছেলেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করবে বড় অফিসার বানাবে। আল্লাহর অশেষ রহমত আজ বাবা মার সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি। এমন হাজারো বাবা মা স্বপ্ন দেখে তাদের ছেলে মেয়েদের নিয়ে। তাদের স্বপ্নগুলো সত্যি হোক। বিসিএস ক্যাডার চাকরী প্রত্যাশী সকলের জন্য অনেক শুভকামনা রইলো।

নিউজটি শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
Mymensingh-IT-Park-Advert
Advert-370
Advert mymensingh live
©MymensinghLive
প্রযুক্তি সহায়তা: ময়মনসিংহ আইটি পার্ক