ডিজিটাল ও জনবান্ধব ময়মনসিংহের ডিসির ব্যতিক্রমী কার্যক্রম

DC-Mizanur-Rahman-Mymensinghময়মনসিংহের জনবান্ধব জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান এবার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দৌড়গোড়ায় পৌঁছে গেলেন তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে। অসহায় মানুষের সমস্যা ও সমাধানের মূর্ত প্রতিক হয়ে জেলায় ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবার সাথেই এখন তিনি যুক্ত। অভিযোগের কথা শুনে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছেন। অসহায় ও হতদরিদ্রদের পাশে অভিবাক হিসেবে দাড়াচ্ছেন। গণমানুষের সমস্যা সমাধানে প্রতি বুধবার অনলাইনে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হচ্ছেন তিনি।

জানাযায়, ২০১৯ সালের জুলাইয়ের ২ তারিখে ময়মনসিংহে যোগদানের পর থেকেই জেলাকে তথ্য প্রযুক্তিতে এগিয়ে নিতে নিজে উদ্যোগী হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ জুম ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছেন। বর্তমান সময়ে করোনা মহামারীতে রীতিমত বিশ্ব যেকানে কাঁপছে, লকডাউনের মধ্যে ঘরবন্দি গোটা দেশ ঠিক তখনও লকডাউনের নিয়ম মেনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সবার সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন তিনি। জনবান্ধব প্রশাসক হিসেবে মানুষের কাচে সেবা পৌছে দিতে তিনি empathy patriotism & commitment নামীয় ফেসবুক গ্রুপ চালু রেখেছেন। জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে প্রতিদিনের কার্যক্রমের আপডেট অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমানের ব্যক্তিগত ও অফিসিয়াল দুটো ফেসবুক আইডি দিয়েই প্রতিনিয়ত আপডেট জানানো হচ্ছে ময়মনসিংহ জেলার লোকজনকে।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে জেলার সাধারণ মানুষের মাঝে আত্মবিশ্বাস ও জনসচেতনতা তৈরিতে জেলা প্রশাসকের ডিজিটাল উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত। প্রতিদিন জেলার করোনার আপডেট জানানো হচ্ছে জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজ হতে। বর্তমান সময়ে করণীয় সম্পর্কে ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন ধরণের দিক নির্দেশনা প্রচার করা হচ্ছে। জেলায় সরকারি ত্রাণ বন্টনে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি রোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওপেন মতামত ও অভিযোগ শুনে যথারীতি ব্যবস্থা নিয়েছেন। জেলায় ত্রাণ বিতরণে সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বয় করে সুষ্টু বন্টনের অনন্য নজীর স্থাপন করেছেন। ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় করতে সরকারি ও বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত সময়ে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এবং এই কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ডাটাবেজ তৈরিতেও জেলা প্রশাসকের সুনাম আজ লোকমুখে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাসপাতাল ব্যস্থাপনা, ত্রাণ ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা ও রমযানে বাজার মনিটরিং কার্যক্রমে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন। যেখানেই অভিযোগ শুনছেন সেখানেই দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছেন। নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও জনগণের জন্য চালু রেখেছেন ২৪ ঘন্টাই। কেউ যেন অনাহারে না থোকে সেজন্য তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেলার সব উপজেলার খোঁজখবর নিয়েছেন ও যারা ত্রাণ পাওয়ার যোগ্য এবং পায়নি তাদের ত্রাণের ব্যবস্থা করেছেন। সরকারের ১০ টাকা কেজি দরের চালের তালিকা ও ২৫০০ টাকা করে যাদের লিস্টে নাম রয়েছে তাদেরকে শতভাগ সুষ্টু নির্বাচনের লক্ষ্যে ফেসবুকে লিস্ট উন্মুক্তের ব্যবস্থা ও অভিযোগ শুনে আমলে নিয়েছেন।

তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সাফল্য সবই সম্ভব হয়েছে জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান এর দ্ধারা। ভবিষ্যতেও এমন ধারা অব্যাহত থাকবে বলে এমনটাই আশা করছে জেলার ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ।