ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবিলায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নেয়া কক্সবাজারে ব্যাপক প্রস্তুতি

দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবিলায় কক্সবাজারে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এবং সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের সব ধরণের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রধান নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়গুলো নিয়ন্ত্রণ কক্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া জেলার ৮টি উপজেলায় এবং উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো: আশরাফুল আফসার জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবিলায় সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলোকে সতর্ক রাখা হয়েছে। একইভাবে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সব সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে সাইক্লোন শেল্টারগুলোও। পাশাপাশি উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গাদের কথা বিবেচনা করে কক্সবাজার ত্রাণ ও শরণার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনারের সাথে আলাদাভাবে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ফণী বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯ শ’ ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯ শ’ ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর বা উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আগামীকাল শুক্রবার বিকেল নাগাদ ভারতের উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে এবং একই সাথে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল অতিক্রম করতে পারে।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top