1. kaium.hrd@gmail.com : ময়মনসিংহ লাইভ ডেস্ক : ময়মনসিংহ লাইভ ডেস্ক
কে এই নুরুল হক? জেনে নিন তার জীবনের পুরো গল্প
শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১:১৭ অপরাহ্ন

কে এই নুরুল হক? জেনে নিন তার জীবনের পুরো গল্প

ময়মনসিংহ লাইভ কর্তৃক প্রকাশিত
  • আপডেট সময় : বুধবার, ১৩ মার্চ, ২০১৯

বাংলাদেশে দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভিপি হিসেবে বিজয়ী হওয়ার পর নুরুল হক নুর এখন রাজনৈতিক অঙ্গন এবং শিক্ষাঙ্গনে আলোচনার শিরোনাম। সাধারণ একজন শিক্ষার্থী থেকে ডাকসুর ভিপি হওয়ার -এই ঘটনাকে ‘চমক’ হিসেবে দেখছেন অনেকেই।

সোমবার মধ্যরাতে ভোটের ফলাফল ঘোষণার সময় ভিপি পদে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হককে সহ-সভাপতি পদে বিজয়ী ঘোষণা করা হলে, ছাত্রলীগের কর্মীরা প্রথমে মেনে নিতে অস্বীকার এবং বিক্ষোভ করে। পরে অবশ্য ভিপি হিসেবে নুরুল হককে স্বাগত জানায় তারা।

কিন্তু অনেকের কাছেই এখনো অজানা- কে এই নুরুল হক?

কোটা থেকে ডাকসু – পথ কতটা মসৃণ ছিল?

ছাত্রলীগ, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মাঝে সাধারণ ছাত্রের ব্যানারে কতটা সাফল্য পাবেন সে নিয়ে অনেকের শঙ্কার মাঝেই নির্বাচনে প্রার্থী হন কোটা আন্দোলনের এই নেতা।

পরে তিনিই প্রায় দুই হাজার ভোটের ব্যবধানে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে পরাজিত করেন। তার মোট প্রাপ্ত ভোট ১১ হাজার ৬২টি। নুরুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকোত্তর পর্বে অধ্যয়নরত।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক তিনি। পাশাপাশি বিতর্ক, অভিনয়সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথেও যুক্ত তিনি। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বেশ কয়েকবার ক্ষমতাসীনদের হামলার মুখে পড়েন তিনি।

‘মাতৃহারা নুরুল হতে চেয়েছিল চিকিৎসক’

নুরুল হকের জন্ম পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার চর বিশ্বাস ইউনিয়নে। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে পরিবারের তৃতীয় সন্তান নুর। ১৯৯৩ সালে নুর তার মাকে হারান।

সাধারণ একটি পরিবারে জন্ম নেয়া নূরের বাবা সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোঃ ইদ্রিস হাওলাদার। তিনি জানান,‘নূর মাতৃহারা হয়েছেন ১৯৯৩ সালে যখন তার বয়স আনুমানিক পাঁচ থেকে ছয় বছর। আমাদের যোগাযোগ সমস্যার কারণে তার মায়ের চিকিৎসা করাতে না পারার কারণে হয়তো সে ডাক্তার হতে চেয়েছিল।’

ভিপি নুরুল হক চর এলাকাতেই সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন।

এরপর গাজীপুরের কালিয়াকৈরে চাচাতো বোনের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করেন এবং কালিয়াকৈর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। এইচএসসি পাশ করেন উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে।

মেডিকেল কলেজে সুযোগ না পেয়ে প্রথমে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান।

রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক

নুরুল হক কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্বের কারণে গণমাধ্যমে পরিচিত মুখ হয়ে ওফেন। এরপর থেকেই একদিকে শারীরিক নানারকম হামলার শিকার যেমন হয়েছেন, তেমনি সাইবার (অনলাইন) জগতেও শিকার হয়েছেন আক্রমণের।

তিনি ‘শিবির-কর্মী’ বলে অনলাইনে প্রোপাগান্ডা চালানো হয়। এমনকি নির্বাচনের ফল ঘোষণার রাতে ভিপি হিসেবে নুর এর বিজয়ের খবরে ‘শিবিরের ভিপি মানি না’ এমন স্লোগানও দিয়েছিল ছাত্রলীগ।

তবে নুরুল হক কখনো শিবিরের রাজনীতিতে যুক্ত ছিল কি-না জানতে চাইলে তার পরিবার তা নাকচ করে দিয়েছেন।

তবে ভিপি নুরুল হক এর আগে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় হল কমিটিতে সক্রিয় ছিলেন। ছাত্রলীগে যোগ দেয়ার পর হাজী মুহম্মদ মহসিন হল শাখা ছাত্রলীগের মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক উপ-সম্পাদক পদ পান তিনি।

হঠাৎ করে এ জায়গায় আসেনি আমার ছেলে : নূরের বাবা

সাধারণ একটি পরিবার থেকে নূর যেভাবে আজ পুরো দেশের পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন সে প্রসঙ্গে তার বাবা ইদ্রিস হাওলাদার বলেন,‘রাজনীতি দুশ্চিন্তার বিষয়। নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতা থাকে। নানা ধরনের ঝামেলা থাকে, জেল জুলুম হয়। অন্যায় নির্যাতনের শিকার হতে হয়, এগুলো যন্ত্রণার ব্যাপার।’

তিনি আরো বলেন,‘কিন্তু আমার ছেলে সব সাধারণ ছাত্রছাত্রীর জন্য আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে হামলা, মামলা আর নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তবু আমি চাই সে (নুর) এটা চালিয়ে যাক।’

ভিপি নুরুল হক নুরের বাবা চান, তার ছেলে যে ধারায় রাজনীতির মধ্যে এসে পড়েছে, সে ধারা ধরে রাখুক সততার সাথে।

ইদ্রিস হাওলাদার বলেন,‘আমার ছেলে নষ্ট হয়ে যাক এটা আমি কখনোই চাই না। আমি চাই আমার ছেলের দ্বারা দেশের মঙ্গল হোক।’

সাধারণ পরিবার থেকে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হলেও একেকটি আন্দোলন তাকে গড়ে তুলেছে বলে তার বাবা মনে করছেন।

ইদ্রিস হাওলাদার আরো বলেন,‘অনেকেই বলছে সে সাধারণ পরিবারের- এটা ঠিক, তবে সে যে আন্দোলন করেছে সেটা সকল মানুষের আন্দোলন ছিল, সারা বাংলার মানুষের সমর্থন পেয়েছে সে।’

ভিপি নুরুল হকের বাবা বলেন,‘সড়ক দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে জনজীবনের নিরাপত্তার জন্য তারা আন্দোলন করেছে। সে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে, এইভাবে সে নিজেকে তৈরি করেছে। সুতরাং সে হঠাৎ করে এই জায়গায় আসেনি।’

তিনি আরো বলেন,‘একবার ডিবি পুলিশ নুরকে ধরেছিল এবং পরে ছেড়ে দিয়েছিল। তবে আমাদের কোনো ভয়ভীতি নেই। আমার ছেলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেভাবে জড়িত না। কোনো রাজনৈতিক ব্যানারে নির্বাচন করেনি নুর।’

নুরের বাবা বলেন,‘সে (নুরুল) এখন মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। তাকে জ্ঞান দেয়ার কিছু নাই। সে যা ভালো মনে করবে তাই করবে।’

একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন বাবুল মুন্সী বলেন,‘নুরকে এখানকার মানুষ খুব একটা চিনতো না। তবে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় এলাকার মানুষ তার কথা জানতে পারে।’

তিনি আরো বলেন,‘এখন নুরুল হক নুরের এই অর্জন চরাঞ্চলের মানুষকে আনন্দিত করেছে।’ সূত্র : বিবিসি।

নিউজটি শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ
Mymensingh-IT-Park-Advert
Advert-370
Advert mymensingh live
©MymensinghLive
প্রযুক্তি সহায়তা: ময়মনসিংহ আইটি পার্ক